
নয়াদিল্লি : বদলে যাচ্ছে রেলের রিজার্ভেশন সিস্টেম। এবার থেকে আরও দ্রুত টিকিট বুক করতে পারবেন। খুব শীঘ্রই নতুন বুকিং সিস্টেম চালু করতে চলেছে ভারতীয় রেল। বছরের পর বছর ধরে রেলের টিকিট বুকিং সিস্টেম নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে । অনলাইন হোক বা অফলাইন…সব ক্ষেত্রেই নানারকম সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। কখনও অনলাইনে টিকিট কাটতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, সাইট অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। আবার এরকমও দেখা গিয়েছে, টিকিট বুকিংয়ের সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ দেওয়ার পর হঠাৎ চোখের সামনে ভেসে ওঠে ছোট মেসেজ সেসন এক্সপায়ারড। আবার অফলাইনে টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক সময়ই শুনতে হয়েছে সার্ভার ডাউন। পরে আবার চালু হতেই দেখা গিয়েছে টিকিট সব বিক্রি হয়ে গিয়েছে। এবার এই সমস্যা মেটাতেই উদ্যোগী ভারতীয় রেল। তৎকালেও বিশেষ সুবিধা মিলবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
নতুন রিজার্ভেশন সিস্টেম
জানা গিয়েছে, নতুন বুকিং সিস্টেম চালু হলে বর্তমানের তুলনায় বুকিং ক্ষমতা ৫ গুণ বাড়বে। বর্তমানে ২৫ হাজার টিকিট বুক করা যায়। নতুন সিস্টেম চালু হলে ১ লাখ ২৫ হাজার টিকিট বুক করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সকাল আটটায় আর ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকতে হবে না। খুব সহজেই টিকিট বুক করতে পারবেন আপনি এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে নতুন টিআরএস চালু হতে পারে খবর। জানা গিয়েছে, আনুমানিক এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভারতীয় রেল তার যাত্রী সংরক্ষণ ব্যবস্থা (PRS) সংস্কার করছে। দেখা গিয়েছে এতদিন, বিভিন্ন অবৈধ সফ্টওয়্যার বুকিং খোলার সঙ্গে সঙ্গে টিকিট নিয়ে নিত। এর ফলে মুহূর্তেই সব টিকিট সোল্ড আউট দেখাত। নতুন সিস্টেমে আর সেই সুযোগ থাকছে না। ইতিমধ্যেই ২.৫ কোটি ভুয়ো ইউজার আইডি ব্লক করেছে ভারতীয় রেল।
কবে থেকে চালু হবে নয়া সিস্টেম ?
সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেম (CRIS)-এর একজন আধিকারিক জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টা আপাতত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে রয়েছে। এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন সিস্টেম চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে চালু হবে নতুন রিজার্ভেশন সিস্টেম।
২০২২ সালে পিআরএস অর্থাৎ রিজার্ভেশন সিস্টেম আধুনিকীকরণের জন্য ১৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। মূলত ২০২৬ সালে অগস্টে লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। কাজ অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন বুকিং সিস্টেমে অনেক জালিয়াতি রোখা যাবে আর দ্রুত বুকিংয়ের সুবিধা মিলবে। সাধারণ মানুষকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না।