
বেঙ্গালুরু: দেশের রেল প্রযুক্তিতে এক নতুন অধ্যায়। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি আর নক্সায় তৈরি হচ্ছে ভারতের প্রথম হাইস্পিড ট্রেন। বেঙ্গালুরুর ওয়ার্কশপে তৈরি হওয়া বুলেট ট্রেনের গতি হবে ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার। মুম্বই আহমেদাবাদ হাইস্পিড রেল করিডরের জন্য তৈরি করা হচ্ছে B28 নামের এই ট্রেনটিকে। সম্প্রতি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই ট্রেনটির উৎপাদন প্রক্রিয়া ও নকশা সরেজমিন খতিয়ে দেখেছেন।
সর্বোচ্চ ও পরীক্ষামূলক গতি: ট্রেনের সর্বোচ্চ পরীক্ষামূলক গতি নির্ধারিত হয়েছে ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার এবং এর অপারেশনাল বা বাণিজ্যিক গতি হবে ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার।
কোচ ও দৈর্ঘ্য: এই ট্রেনটিতে মোট ৮টি কোচ রয়েছে (৪টি মোটর কার এবং ৪টি ট্রেলার কার), যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২০২ মিটার। ভবিষ্যতে যাত্রী চাহিদা বাড়লে দুটি ৮ কোচের ট্রেনকে একসঙ্গে জুড়ে ১৬ কোচের ট্রেন হিসেবেও চালানো যাবে।
আসন ক্ষমতা: ট্রেনটিতে মোট প্রায় ৫৫৭ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। এর মধ্যে ৭টি স্ট্যান্ডার্ড-ক্লাস কোচ (৩×২ সিটিং বিন্যাস) এবং ১টি এক্সিকিউটিভ-ক্লাস কোচ (২×২ সিটিং) রয়েছে। এছাড়া বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট আসন ও স্থান সংরক্ষিত রয়েছে।
পাসঞ্জার ইনফরমেশন ও ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম: যাত্রীদের সুবিধার্থে ট্রেনের ভেতর ইংরেজি, হিন্দি ও আঞ্চলিক ভাষায় তথ্য প্রদর্শনের জন্য আধুনিক এলসিডি স্ক্রিন ও স্বয়ংক্রিয় ঘোষণা ব্যবস্থা রয়েছে। জরুরি যোগাযোগের জন্য টক-ব্যাক ইউনিট এবং প্রি-লোড করা এন্টারটেইনমেন্ট সহ ওয়াই-ফাই ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেমের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত : ট্রেনটির ফ্লোর প্ল্যাটফর্মের সমান্তরালে রাখা হয়েছে যাতে সহজে ওঠা-নামা করা যায়। দরজা ও প্ল্যাটফর্মের মধ্যবর্তী ফাঁক কমাতে প্রত্যাহারযোগ্য ফুটস্টেপ (retractable footsteps), হুইলচেয়ার চলাচলের উপযোগী প্রশস্ত দরজা এবং দৃষ্টিহীন যাত্রীদের জন্য ব্রেইল সাইনেজ যুক্ত করা হয়েছে।
জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ ও শব্দহীন যাত্রা: ট্রেনের ভেতর আরামদায়ক তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে প্রতিটি কোচে আধুনিক এইচভিএসি ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চগতিতে চলার সময় শব্দ কমাতে সাউন্ড ইনসুলেশন, নয়েজ-ড্যাম্পিং কোটিং ও বিশেষ বোগি কভার ব্যবহার করা হয়েছে।
শক্তি দক্ষতা ও অ্যারোডাইনামিক ডিজাইন: ট্রেনটি ২৫ কেভি এসি ট্র্যাকশন সিস্টেমে চলবে এবং এতে রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেম রয়েছে, যা ব্রেক কষার সময় শক্তি পুনর্ব্যবহার করতে সাহায্য করে। কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে এর নকশা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে বাতাসের বাধা ও শব্দ তরঙ্গ সর্বনিম্ন থাকে।