
ভোপাল: পরীক্ষার সূচি জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে দেওয়া হয়েছিল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডও। কিন্তু, সঠিক সময়ে উপস্থিত হয়েও পরীক্ষা দিতে পারলেন না শিক্ষার্থীরা। কারণ? বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নাকি, ভুলেই গিয়েছিল পরীক্ষার কথা। পরীক্ষা পরিচালনাকারী বিভাগের নাকি পরীক্ষার কথা মনেই ছিল না। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের রানি দুর্গাবতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার পর ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে বিশ্বাবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টির তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই, এই নজিরবিহীন ঘটনার জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের দাবি, দিন ২০ আগেই এমএসসি কোর্সের কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ের প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষার সূচি ঘোষণা করা হয়েছিল রানী দুর্গাবতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। জানানো হয়েছিল ৫ মার্চ সকাল ১০টায় পরীক্ষা হবে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাঁদের পরীক্ষার প্রবেশপত্রও দেওয়া হয়েছিল। সেখানেও একই দিন ও একই সময়ের কথা উল্লেখ করা ছিল। মঙ্গলবার সকালে পরীক্ষা দিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু তাঁদের দাবি, বিশ্ববিদ্যানয়ের পক্ষ থেকে তাঁদের বলা হয়, এদিন কোনও পরীক্ষা নেই। পরে জানা যায়, সূচি তৈরি করে অ্য়াডমিট কার্ড দিয়ে দিলেও, পরীক্ষার কথা বিশ্ববিদ্যালয় বেমালুম ভুলে গিয়েছে। ওই দিনের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কোনও প্রশ্নপত্রই তৈরি কর হয়নি।
এই কথা জানাজানি হতেই পরীক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এই পরীক্ষার জন্য তাঁরা সারারাত জেগে পড়াশোনা করেছেন। এই অবস্থায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে শুনতে হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ প্রশ্নপত্র তৈরি করতেই ভুলে গিয়েছে। এর থেকে হতাশাজনক আর কিছু হতে পারে না। তাঁদের পরিশ্রমের কোনও মূল্য দিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়। এরপরই, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের অবহেলা করার অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই। হাতে কালো ব্যান্ড পরে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তবে, তার আগেই এই লজ্জাজনক ঘটনা নিয়ে, সব বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন উপাচার্য। এনএসইউআই বৈঠকস্থলের বাইরে ধরনায় বসেন।
সংগঠনের জবলপুরের জেলা সভাপতি, সচিন রজক বলেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গুরুতর অবহেলা রয়েছে। তারা কীকরে পরীক্ষা নিতে ভুলে যেতে পারেন? শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছিল। কিন্তু, তাদের ধোকা দেওয়া হয়েছে। বোকা বানানো হয়েছে। এটি কোনও ছোট স্কুল বা কলেজের ঘটনা নয়। এর সঙ্গে একটা স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় জড়িয়ে রয়েছে।”
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য আর কে ভার্মা বলেছেন, “বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, কিছু কারণে, এক্সাম কন্ট্রোলার পরীক্ষা স্থগিত করার কথা বলেছিলেন। সেই মতো ব্যবস্থা নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু, শিক্ষার্থীদের তা জানানো হয়নি। এর জন্য কে বা কারা দায়ী, তা তদন্ত হলেই জানা যাবে। সেই তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”