
শ্রীনগর: ফের বিয়ে করলেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা (Omar Abdullah)। সাংবাদিক নিধি রাজদানের (Nidhi Rajdan) সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার নিধির সঙ্গে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। আর শনিবারই সেই খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিলেন ওমর আবদুল্লা নিজেই। সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর সঙ্গে ছবিও পোস্ট করেছেন। ক্যাপশনে লেখেন,’গতকাল থেকে শুরু হল এক নতুন যাত্রা।’ সেই পোস্টে নিধি রাজদানকেও ট্যাগ করেছেন তিনি। নিধি নিজেও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেব বিয়ের ছবি।
বিয়ে উপলক্ষে শ্রীনগরে ছোট করে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অনুষ্ঠানে ছিলেন ওমর আবদুল্লার বাবা-মা তথা ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লা ও মলি আবদুল্লা। ওমরের তিন বোন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, নিধি রাজদানের বাবা বিশিষ্ট সাংবাদিক এম কে রাজদান এবং মা সরলা রাজদানও অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।
বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তাঁদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অনেকে। বিয়ের পর রিসেপশনেরও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দিল্লির পৃথ্বীরাজ রোডে জম্মু-কাশ্মীর হাউসে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে খবর। আমন্ত্রিত রাজনৈতিক জগতের বিশিষ্টরা। জানা গিয়েছে, এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথির সংখ্যা ৭১। অতিথি তালিকায় রয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং রবার্ট বঢরা। আমন্ত্রণ পেয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও।
নিধি রাজদান দেশের খ্যাতনামা সাংবাদিকদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৭৭ সালের ১১ এপ্রিল তাঁর জন্ম। তিনি কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারের মেয়ে। তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা দিল্লিতে। লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছেন তিনি। তাঁর শিকড় জম্মু-কাশ্মীরের বডগাম এলাকায়। সাংবাদিকতার জগতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ নিধি। এর আগে ২০০৫ সালে সাংবাদিক ও লেখক নীলেশ মিশ্রের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল বলে জানা যায়। ২০০৭ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এবার ওমর আবদুল্লার সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করলেন তিনি।
ওমর আবদুল্লার দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। কয়েকদিন আগেই প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল তাঁর। দীর্ঘদিন ধরে আলাদা থাকছিলেন ওমর ও তাঁর প্রথম স্ত্রী পায়েল আবদুল্লা। ঠিক তিন মাস আগেই তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তারপর থেকেই তাঁর বিয়ে নিয়ে জল্পনা চলছিল।
১৯৯৪ সালে পায়েল আবদুল্লাকে বিয়ে করেছিলেন ওমর। দিল্লির ওবেরয় হোটেলে কাজ করার সময় তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। তাঁদের দুই ছেলে রয়েছে। নাম জাহির ও জামির। ২০০৯ সাল থেকে আলাদা থাকতে শুরু করেন ওমর ও পায়েল। ২০১১ সালে নিজেদের বিচ্ছেদের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন ওমর। দীর্ঘদিন আলাদা থাকার পর চলতি বছরের জুলাই মাসে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়ায় সম্মতি দেয় শীর্ষ আদালত।
২০২৬ সালের ৩১ জুলাই ওমর আবদুল্লা ও পায়েল আবদুল্লার বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়ে সম্মতি দেয় সুপ্রিম কোর্ট। দুই পক্ষই আদালতকে জানিয়েছিলেন, তাঁরা পারস্পরিক সম্মতিতে সম্পর্কে ইতি টানতে চান। পাশাপাশি, একে অপরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলিও প্রত্যাহার করতে রাজি হন তাঁরা। এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ওমর। পরে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জানান দুই পক্ষ। বিবাহবিচ্ছেদের সম্মতি দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তার তিন মাসের মধ্যেই সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার খবর জানালেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী।