বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা, অবশেষে ইস্তফা দিলেন বিচারপতি ভর্মা

Justice Yashwant Verma Resigns: বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। চরম বিতর্ক, তদন্তের মাঝে অবশেষে ইস্তফা দিলেন দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি যশবন্ত ভর্মা। জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে তিনি ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। 

বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা, অবশেষে ইস্তফা দিলেন বিচারপতি ভর্মা
ইস্তফা দিলেন বিচারপতি ভর্মা।Image Credit source: X

|

Apr 10, 2026 | 12:47 PM

নয়া দিল্লি: বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। চরম বিতর্ক, তদন্তের মাঝে অবশেষে ইস্তফা দিলেন দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি যশবন্ত ভর্মা (Justice Yashwant Verma)। জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে তিনি ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। বিচারপতি ভর্মার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হয়েছিল ইতিমধ্য়েই। তার মাঝেই নিজে থেকে ইস্তফা দিলেন বিচারপতি যশবন্ত ভর্মা।

জানা গিয়েছে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মুর্মুর কাছে পাঠানো ইস্তফাপত্রে তিনি ইস্তফার কারণ উল্লেখ করেননি। বিচারপতি ভর্মা নিজে থেকেই ইস্তফা দেওয়ায়, তাঁর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের বিচারপতি পদ থেকে সরানোর যে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া চলছিল, তা শেষ হল। আলাদাভাবে তাঁকে আর ইমপিচ করতে হবে না। এমনটাই খবর লোকসভা সেক্রেটারিয়েট সূত্রে।

কেন বিতর্ক?

২০২৫ সালের ১৪ মার্চ দিল্লির লুটিয়েন্সে অবস্থিত বিচারপতি ভর্মার সরকারি বাসভবনে আগুন লাগে। আগুন নেভাতে গিয়ে দমকল কর্মীরা তাঁর বাড়ির সার্ভেন্ট কোয়ার্টারের পাশে স্টোররুম থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া টাকার প্রায় পুরোটাই পুড়ে গিয়েছিল, তাই কত টাকা ছিল, তা জানা যায়নি। তবে প্রায় দেড় ফুট উচ্চতা ছিল ওই টাকার কাঁড়ির।

সেই সময় দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন তিনি। ঘটনার সময় বিচারপতি যশবন্ত ভর্মা ও তাঁর স্ত্রী ভোপালে ছিলেন। তিনি অস্বীকার করেছিলেন গোটা ঘটনা। দাবি করেছিলেন, এই টাকা তাঁর নয়। যেহেতু ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না, তাই কী করে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হতে পারে, এই প্রশ্নও করেন তিনি।

বিচারপতি ভর্মার বাড়ি থেকে বিপুল টাকা উদ্ধারের এক সপ্তাহ পরে সুপ্রিম কোর্ট তিন বিচারকের একটি কমিটি তৈরি করে এই ঘটনার তদন্ত করার জন্য। ওই বছরের ৪ মে প্য়ানেল সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার কাছে রিপোর্ট পেশ করেন। আপলোড করা হয় তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া টাকার ছবি ও ভিডিয়ো।  দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। ট্রান্সফার করা হয় এলাহাবাদ হাইকোর্টে। সেখানেও তাঁকে বিচার সংক্রান্ত কোনও কাজ দিতে নিষেধ করা হয়েছিল।

গত অগস্ট মাসে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করেন বিচারপতি ভর্মার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগের তদন্ত করতে। বিচারপতি ভর্মা এই প্যানেলের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন। হাজারো বিতর্কের মাঝে অবশেষে তিনি নিজে থেকেই বিচারপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন।

Follow Us