
নয়াদিল্লি: ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর নিয়ে তরজা শুরু হয়েছে। গতকাল রাতেই নোটিফিকেশন জারি করে কেন্দ্র জানিয়েছে, ১৬ এপ্রিল থেকেই আইন কার্যকর হচ্ছে। এবার এই ইস্যুতেই আজ উত্তাল হল সংসদ। সুর চড়ালেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে বললেন, সবটাই নাটক। পুরোটাই পলিটিক্যাল গিমিক। একইসঙ্গে মোদীকে ৫০ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কল্যাণ।
মোদীকে আক্রমণ কল্যাণের
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যে আইনটি কার্যকর করা হয়নি, সেই আইনটিকে কীভাবে সংশোধন করা যেতে পারে? আমি এই পয়েন্টটাই তো বুঝতে পারলাম না। আইন মন্ত্রীকে কেউ পরমার্শ দিন। মাঝ রাতে হঠাৎ নোটিফিকেশন বেরিয়ে গেল। বলা হল কার্যকর করা হচ্ছে আইন। পুরোটাই ভুল পদ্ধতিতে কাজ চলছে।” এরপরই প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রীর একটা দারুণ গুণ রয়েছে। যখনই তিনি বুঝতে পেরেছেন পরবর্তী ভোটে হারতে চলেছেন, তখনই খেলার নিয়ম বদলে ফেললেন। তার জন্যই এটা করছে। আর কিছুই নয়। সবটাই দেখানো। আসল প্ল্যান তো আলাদা রয়েছে। সেটা হল ডিলিমিটেশন, আসন পুনর্বিন্যাস। এটাই আসল প্ল্যান। মহিলাদের সেন্টিমেন্টের সুযোগ নিচ্ছেন তাঁরা।”
আর কী বললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আপনারা শুধু রামের পূজা করেন, আর আমরা সীতা, দুর্গা ও কালীতে বিশ্বাস করি।” এরপরই ৫০ শতাংশ নারী সংরক্ষণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কল্যাণ। সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন,”আপনারা যদি নারী সংরক্ষণ চান, তবে এখনই তা চালু করুন। ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ আনুন। তার জন্য আসন পুনর্বিন্যাসের কোনও প্রয়োজন নেই। নাটক করার কোনও প্রয়োজন নেই। আসলে আপনাদের সাহসই নেই।”
গতকালই সংসদে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার সংসদে বিশেষ অধিবেশনের সময় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় চিৎকার করে বাধা দেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তখনই কটাক্ষ করে মোদী বলেন,”আরে ভাই, এনাকে বলতে দিন। ওখানে বেচারার মুখে তালা লেগে থাকে। বাংলায় কেউ ওঁকে কথা বলতে দেন না। নিজের রাজ্যে উনি বলার সুযোগ পান না। তাই এখানে একটু বলছেন।”