Land Encroachment: প্রতিবেশী জমি জবরদখল করে নিলে কীভাবে সেটা উদ্ধার করবেন? কোন কোন রাস্তা আছে, জেনে রাখুন…

Land Dispute: থানায় অভিযোগ জানিয়ে লাভ না হলে বা জমি নিয়ে যেকোনও সময় বড় ধরনের অশান্তির আশঙ্কা থাকলে, সরাসরি মহকুমা শাসক (SDM/SDO) বা এক্সেকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আবেদন করা যায়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা বা ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় আবেদন করতে হয়।

Land Encroachment: প্রতিবেশী জমি জবরদখল করে নিলে কীভাবে সেটা উদ্ধার করবেন? কোন কোন রাস্তা আছে, জেনে রাখুন...
প্রতীকী চিত্র।Image Credit source: Gemini AI

|

Oct 04, 2026 | 2:47 PM

কলকাতা: যাদের নিজস্ব জমি বা বাড়ি রয়েছে, তারা জানেন যে সেই জমি-বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ করা কতটা কঠিন! অনেক সময়ই অভিযোগ শোনা যায় যে প্রতিবেশী একটু একটু করে জমি দখল করে নিয়েছেন বা জমি দখলের চেষ্টা করছেন। যদি এমন হয়, তাহলে কী করবেন?

প্রতিবেশী বা অন্য কেউ অবৈধভাবে জমি দখল করলে বা দখলের চেষ্টা করলে দেওয়ানি (Civil) ও ফৌজদারি (Criminal)- উভয় আইনি পথেই প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। জমি দখলের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি আইনি লড়াইয়ের জন্য একাধিক জায়গায় অভিযোগ জানাতে পারেন।

১. স্থানীয় থানা (Police Station)-

জমি দখলের চেষ্টা হলে বা জমি নিয়ে মারামারি, হুমকি ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে প্রথম ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হল, নিকটবর্তী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ (FIR) জানানো। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র অধীনে বেআইনি অনুপ্রবেশ (Criminal Trespass), ভয় দেখানো (Criminal Intimidation), বা জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগে পুলিশ পদক্ষেপ নিতে পারে।

পুলিশের ভূমিকা: সাধারণত জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ ‘দেওয়ানি’ (Civil) প্রকৃতির হওয়ায়, পুলিশ সরাসরি জমির মালিকানা ঠিক করতে পারে না। তবে তারা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বেআইনি বলপ্রয়োগ আটকানোর জন্য পদক্ষেপ করতে পারে।

২. এগজেকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (Executive Magistrate Court)

থানায় অভিযোগ জানিয়ে লাভ না হলে বা জমি নিয়ে যেকোনও সময় বড় ধরনের অশান্তির আশঙ্কা থাকলে, সরাসরি মহকুমা শাসক (SDM/SDO) বা এক্সেকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আবেদন করা যায়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা বা ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় আবেদন করতে হয়। সেক্ষেত্রে বিচারক বিতর্কিত জমিতে কোনও ধরনের নির্মাণ বা প্রবেশ বন্ধের নির্দেশ (Prohibitory Orders) দিতে পারেন।

এছাড়া ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৫ ধারা বা ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৪ ধারায় জমি দখলের আশঙ্কা বা বিবাদ থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জমিটি আদালতের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আদেশও দিতে পারেন।

৩. ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর-

জমির সীমানা নির্ধারণ বা সরকারি নথিপত্রে জালিয়াতি করে জমি দখলের চেষ্টা হলে স্থানীয় ভূমি রাজস্ব দফতর  (Block Land & Land Reforms Office) অফিসে লিখিত আবেদন জানাতে পারেন। জমির সীমানা নিয়ে সমস্যা থাকলে, সেক্ষেত্রে সরকারি আমিন দিয়ে জমি মাপানোর আবেদন করা যায়। এছাড়া জমি দখলকারী যদি ভুয়ো কাগজপত্র তৈরি করে, তাহলে সেই মিউটেশন বা খতিয়ান সংশোধনের জন্য ভূমি অফিসে গিয়ে অভিযোগও জানাতে পারেন।

৪. দেওয়ানি আদালত (Civil Court)-

জমি পুনর্দখল (Possession) এবং মালিকানা (Title) প্রমাণের জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ হল স্থানীয় দেওয়ানি আদালত। সেক্ষেত্রে প্রতিবেশী যাতে আপনার জমিতে ঢুকতে বা কোনও নির্মাণকাজ করতে না পারে, তার জন্য আদালতের কাছে “Injunction” বা নিষেধাজ্ঞার আবেদন করতে পারেন।

সাময়িক নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction): মামলা চলাকালীন যাতে প্রতিবেশীরা জমি দখল করে সীমানা বদলে না ফেলতে পারে, তার জন্য তাৎক্ষণিক ‘স্টে অর্ডার’ (Stay Order) পাওয়া যায়।

যদি জোর করে জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়, তবে উচ্ছেদ হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে এই ধারায় দেওয়ানি আদালতে মামলা করে জমি ফেরত চাওয়া যায়।

৫. পঞ্চায়েত / পৌরসভা বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে অভিযোগ-

আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি অনেক সময় স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান, কাউন্সিলর বা স্থানীয় সালিশি সভার মাধ্যমে প্রাথমিক আলোচনার চেষ্টা করা যায়। তবে বিষয়টি জটিল হলে বা প্রতিবেশীরা নিয়ম না মানলে সরাসরি আইনি পথেই হাঁটা ভালো।

কী কী করবেন?

  •  জমির সমস্ত আসল কাগজপত্র যেমন দলিল, খতিয়ান/পরচা, মিউটেশন সার্টিফিকেট, খাজনার রশিদ গুছিয়ে রাখুন।
  •  জমি দখলের চেষ্টার কোনও ছবি, ভিডিও বা প্রমাণ থাকলে, তা সংগ্রহ করে রাখুন।
  •  থানায় লিখিত অভিযোগ জানান।
  • পরিস্থিতি জটিল হলে অবিলম্বে অভিজ্ঞ দেওয়ানি আইনজীবী (Civil Lawyer)-এর পরামর্শ নিন।
Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us