
নয়া দিল্লি: যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ দেখানো যাবে না। চলতি সপ্তাহেই এই নোটিস জারি করেছে কেন্দ্র। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা। আজ, বৃহস্পতিবার যন্তর মন্তরকে নির্দিষ্ট বিক্ষোভ স্থল (designated protest site) হিসেবে ডিনোটিফাই (denotify) বা সরিয়ে দেওয়ার আবেদনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে নোটিস ইস্যু করল সুপ্রিম কোর্ট।
এ দিন মামলার শুনানিতে আইনজীবী গোপাল সুব্রামনিয়াম বলেন, “যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদের স্থল হিসেবে ফের বৈধতা দেওয়া হোক। যন্তর মন্তরকে ডিনোটিফাই করার যুক্তি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে বলে সরকার দাবি করছে।”
“কোন যুক্তিতে এবং কোন কোন দিক খতিয়ে দেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা আমরা দেখব”। এ কথা জানান বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। শীর্ষ আদালত বলে, “আমরা কেন্দ্র, দিল্লি পুলিশকে নোটিস ইস্যু করছি। তাদের জবাব দিতে দিন। যদি তাদের জবাব সন্তোষজনক না হয়, তাহলে আইন নিজের পথে চলবে।”
কেন্দ্রের তরফে হাজির সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা জানান যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসাবে সরানোর সিদ্ধান্ত কমিটির সুপারিশে হয়েছে।
একইসঙ্গে পুলিশ সহ সব এজেন্সিকে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ডিটেনশন সেন্টারের প্রিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব ডিজিটাল আইটেম সংরক্ষণ করতে হবে। দিল্লি পুলিশের বডি ক্যাম ফুটেজও সংরক্ষণ করতে হবে।
সেকশন ১৬৩ জারি নিয়ে সরকারের কি নির্দেশ ছিল সে বিষয়ে বিশদে হলফনামায় জানানোর জন্য সলিসিটার জেনারেলকে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর অভিযোগ, কতজনকে আটক করা হয়েছে সেই সংখ্যা জানানো হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ দেখানো যাবে না। এটিকে বিক্ষোভস্থল হিসাবে ডিনোটিফাই বা সরানো হল। এর বদলে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভস্থল হিসাবে চিহ্নিত করে। একইসঙ্গে একাধিক শর্তও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় বিক্ষোভ দেখানোর জন্য।