
নয়া দিল্লি: অসুস্থ বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথা দেশের প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবাণী(LK Advani)। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বুকে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৯৮ বছর বয়সি এই প্রবীণ নেতার। তবে বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ লালকৃষ্ণ আদবাণীকে দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বুকে সংক্রমণ থাকায় তাঁকে হাসপাতালের পালমোনারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, মাত্র কয়েক দিন আগেই আদবাণীর বাড়িতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। গত ৭ অক্টোবর সরকারপ্রধান হিসাবে ২৫ বছর পূর্ণ করেন মোদী। সেই উপলক্ষে দিল্লিতে আদবাণীর বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবীণ নেতার আশীর্বাদও নেন তিনি।
আদবাণী সঙ্গে সাক্ষাতের পর এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টও করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিজেপির বর্ষীয়ান নেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং দেশের প্রতি তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। মোদী লেখেন, কয়েক দশক ধরে জনসেবার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে গভীর ছাপ রেখেছেন আদবাণী। ভারতের অগ্রগতির ভিত মজবুত করতেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিন দফায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন লালকৃষ্ণ আদবাণী। প্রথমবার ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সাল, দ্বিতীয়বার ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ সাল এবং তৃতীয়বার ২০০৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দলের সভাপতি ছিলেন। ১৯৯০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর গুজরাটের সোমনাথ থেকে রাম রথযাত্রা শুরু করেন তিনি। সেই রথযাত্রার মাধ্যমেই রামমন্দির আন্দোলন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। যদিও রথযাত্রা শেষ করতে পারেননি আদবাণী। ওই বছরের ২৩ অক্টোবর বিহারের সমস্তিপুরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়। সেই ঘটনায় আদবাণী-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। যদিও বহু বছর পর বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় আদবাণী-সহ অন্য অভিযুক্তদের বেকসুর খালাস করে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত।
অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের আমলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন আদবাণী। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তিনি। পাশাপাশি ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীনই ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধ এবং ২০০১ সালে সংসদ ভবনে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত মোরারজি দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছিলেন আদবাণী। ভারতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্ন-এ ভূষিত করা হয় তাঁকে।