
দক্ষিণের কন্যাকুমারী থেকে অসমের রাজধানী ডিব্রুগড়। এই দূরত্ব পার করে ভারতের দীর্ঘতম ট্রেন। বলা হয়, এই ট্রেন নাকি আসল ভারতের ছবিটা দেখায়। ৪ দিনে ৪ হাজার ২০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেয় এই ট্রেন। ২০১১ সালে চালু হওয়া এই ট্রেন হল বিবেক এক্সপ্রেস।
স্বামী বিবেকানন্দের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে চালু হয়েছিল এই ট্রেন। ৪ হাজার ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব পেরোতে পেরোতে এই ট্রেনের যাত্রীরা পান এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। ৯ রাজ্যের মধ্যে দিয়ে যায় এই বিবেক এক্সপ্রেস। কেরলের তিরুবনন্তপুরম, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম, তামিলনাড়ুর মাদুরাই; সব মিলিয়ে প্রায় ৫৭টিরও বেশি স্টেশনে থামে এই ট্রেন।
বিবেক এক্সপ্রেস শুধু একটি ট্রেন নয়। বলা যায়, এটি একটি সাংস্কৃতিক সংযোগ। এর রুটে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। নিউ জলপাইগুড়ি, মালদা টাউন, রামপুরহাট ও খড়্গপুর জংশন ছুঁয়ে যায় ট্রেনটি। ফলে বাংলার রেলযাত্রীরাও সহজেই এই দীর্ঘতম যাত্রার শরিক হতে পারেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ট্রেন নর্থ-ইস্টের পর্যটন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এটি অসমের চায়ের বাগান থেকে কেরলের উপকূলে ভ্রমণের সুযোগ এনে দেয়।
এই যাত্রাপথে আপনি আলাদা আলাদা সংস্কৃতি, ভাষা এবং খাবারের স্বাদ পাবেন। এটি দেশের ভ্রাতৃত্বের এক প্রতিচ্ছবি। তাই একবার যদি আপনি ৪ দিনের জন্য ঘর ছাড়ার সাহস করতে পারেন, তবে বিবেক এক্সপ্রেসেই শুরু করতে পারেন ভারতকে আবিষ্কারের যাত্রা।