Post Covid Problems: চিন, ইউরোপের নাগরিকদের তুলনায় ভারতীয়দের উপরই কোভিড বেশি প্রভাব ফেলেছে: সমীক্ষা
Lungs Infections: গোটা বিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল কোভিড মহামারী। কিন্তু, সেই মহামারীর তিন বছর পর বর্তমানে ভেলোরের ক্রিশ্চান মেডিক্যাল কলেজের (CMC) এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ইউরোপীয় মহাদেশের দেশগুলি এবং চিনের তুলনায় ভারতীয়দের মধ্যেই ফুসফুসের সমস্যা বেশি দেখা দিয়েছে। আর এই সমস্যা একেবারে নির্মূল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ভেলোর: কোভিড মহামারীর পর তিন বছর পেরিয়ে গিয়েছে। ভ্যাকসিনের দৌলতে কোভিড সংক্রমণ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ভয়-উদ্বেগও কেটেছে। কিন্তু, কোভিডের ক্ষতিকারক প্রভাব এখনও কাটেনি। দু-তিন বছর আগে যাঁরা কোভিড আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং সুস্থও হয়ে উঠেছিলেন। বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনযাপনও করছেন। কিন্তু, তাঁদের অধিকাংশই আজও কোভিডের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে বেরোতে পারেননি। কোভিড আক্রান্তদের ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারতীয়রাই এই সমস্যায় বেশি ভুগছেন। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্বের সমস্ত দেশেই সংক্রমণ ছড়িয়েছিল করোনা ভাইরাস। বলা যায়, গোটা বিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল কোভিড মহামারী। কিন্তু, সেই মহামারীর তিন বছর পর বর্তমানে ভেলোরের ক্রিশ্চান মেডিক্যাল কলেজের (CMC) এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ইউরোপীয় মহাদেশের দেশগুলি এবং চিনের তুলনায় ভারতীয়দের মধ্যেই ফুসফুসের সমস্যা বেশি দেখা দিয়েছে। আর এই সমস্যা একেবারে নির্মূল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
সিএমসি-র সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে বাতাস থেকে শ্বাস গ্রহণ করে রক্তবাহিকার মধ্যে স্থানান্তরিত করা এবং শ্বাস ছাড়ার স্বাভাবিক ক্ষমতা, চিকিৎসা ভাষায় যাকে বলে ডিফিউসি ক্যাপাসিটি ফর কার্বন মনোক্সাইড (DLCO)-এর ক্ষমতা কমে গিয়েছে। ৪৪.৪ শতাংশ ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে DLCO-র ক্ষমতা কমে গিয়েছে। ৩৫ শতাংশের মধ্যে ফুসফুস সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিয়েছে। ৮.৩ শতাংশ মানুষের ফুসফুসের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছতে বাধা পাচ্ছে। দুটো ক্ষেত্রেই শ্বাস নেওয়া ও শ্বাস ছাড়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। সেজন্যই কোভিডের পর ভারতীয়দের মধ্যে ফুসফুস সংক্রান্ত সমস্যা বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমসি চিকিৎসক ডিজে ক্রিস্টোফার।
সিএমসি-র গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, আগে যেখানে ৪০.১ শতাংশের মধ্যে দু-একটি কোমর্বিটির সমস্যা ছিল, কোভিড-পরবর্তী সময়ে ভারতীয়দের মধ্যে কোমর্বিডিটির হার ৭২.৫ শতাংশ। অধিকাংশেরই সাধারণ কোমর্বিডিটি, যেমন- ডায়াবেটিস(৩৭.৭ শতাংশ), সিস্টেমেটিক হাইপারটেনশন (৩৩.৩ শতাংশ), দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা (২৯ শতাংশ), হার্টের সমস্যা (৮.২ শতাংশ), ম্যালিগ্যান্সি (৪.৩ শতাংশ) এবং দীর্ঘস্থায়ী কিডনির অসুখ (১.৯) সমস্যা দেথা দিয়েছে।
অন্যদিকে, চিনের নাগরিকদের ৪০ শতাংশ কোমর্বিডিটির সীমায় রয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশ হাইপারটেনশন (২৩.৬ শতাংশ) এবং ডায়াবেটিস (৮.২ শতাংশ)-এ আক্রান্ত এবং মাত্র ২.৭ শতাংশ দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন বলে সিএমসি-র সমীক্ষায় প্রকাশিত।
কোভিডের পর যেভাবে ভারতীয়দের মধ্যে ফুসফুসের নানা সমস্যা ও কোমর্বিটির সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেটা খুবই উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন সিএমসি-র এই সমীক্ষার গবেষকদের প্রধান ড. ডিজে ক্রিস্টোফার। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা আর পাঁচজনের মতোই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। কিন্তু, দৌড়ানো বা অন্য কোনও খেলায় ততটা সমর্থ হবেন না। সাধারণ লোকের থেকে তাঁদের হৃৎপিণ্ডের গতি বেশি হবে।
