
নয়া দিল্লি: ভিসা ছাড়াই মালয়েশিয়ায় যেতে পারেন ভারতীয় নাগরিকরা। তবে, ভিসা ফ্রি এন্ট্রির ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম রয়েছে। সেটাই এবার ভারতীয় নাগরিকদের মনে করিয়ে দিল ভারতীয় হাইকমিশন। মঙ্গলবার জারি করা এক নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মালয়েশিয়ায় এই ভিসা-ফ্রি এন্ট্রি সুবিধা শুধুমাত্র পর্যটনের জন্য। চাকরি খোঁজা বা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে এই সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না।
হাইকমিশন জানিয়েছে, সম্প্রতি দেখা গিয়েছে ৩০ দিনের ভিসা-ফ্রি সুবিধা নিয়ে মালয়েশিয়ায় গিয়ে চাকরি খোঁজার প্রবণতা ভারতীয়দের মধ্যে বাড়ছে। কিন্তু এই ধরনের পদক্ষেপ মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে। হাইকমিশনের বক্তব্য, “ভারতীয় পাসপোর্টে সর্বোচ্চ ৩০ দিন মালয়েশিয়ায় থাকার অনুমতি দেওয়া হলেও এই ভিসা-ফ্রি এন্ট্রি শুধুমাত্র পর্যটনের জন্য। অন্য কোনও উদ্দেশ্যে এই সুবিধা ব্যবহার করা অভিবাসন আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।”
এর আগেও পর্যটন ভিসা ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় চাকরি করা বা চাকরি খোঁজার প্রবণতা নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করেছেন আধিকারিকরা। হাইকমিশনের দাবি, বহু ভারতীয় অসাধু এজেন্টদের ভুয়ো চাকরির প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ছেন। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় থেকে যাওয়া, শোষণ, আটক এবং আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
গত বছরও একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছিল ভারতীয় হাইকমিশন। জানানো হয়েছিল, চাকরির উদ্দেশ্যে ভিসা-ফ্রি প্রবেশের সুবিধার অপব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে নট টু ল্যান্ড বা এনটিএল হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে। এছাড়াও সফরের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা, থাকার জায়গার যথাযথ প্রমাণ দেখাতে না পারা কিংবা ফেরার টিকিট না থাকলেও কোনও যাত্রীকে এনটিএল ঘোষণা করা হতে পারে।
শেষ যে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে, তাতে পর্যটকদের প্রয়োজনীয় এবং যাচাই যোগ্য সমস্ত নথি সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে হাইকমিশন। এর মধ্যে রয়েছে কনফার্মড ফেরার টিকিট, হোটেল বুকিংয়ের প্রমাণ, মালয়েশিয়ায় পৌঁছনোর অন্তত তিন দিন আগে মালয়েশিয়া ডিজিট্যাল অ্যারাইভাল কার্ড অনলাইনে জমা দেওয়ার প্রমাণ এবং ন্যূনতম ছ’মাসের বৈধতাযুক্ত পাসপোর্ট। মালয়েশিয়ায় পৌঁছনোর পর অভিবাসন সংক্রান্ত সমস্যা এড়াতেই এই নথিগুলি সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।