
নয়া দিল্লি: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গে এখন বিজেপি সরকার(West Bengal BJP Government)। শনিবারই নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করবে। ইতিমধ্যেই ব্রিগেডে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এদিকে, বাংলায় বিজেপি (BJP) সরকার আসতেই আরেকটা প্রশ্ন উঠছে। বাংলায় প্রচারে এসে বারবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এলে অনুপ্রবেশকারীদের(Infiltration) বেছে বেছে বের করে দেওয়া হবে। এবার কি তাহলে খুব শীঘ্রই সেই কাজ শুরু হয়ে যাবে? অনুপ্রবেশকারীদের পাঠিয়ে দেওয়া হবে বাংলাদেশে? এই জল্পনার মধ্যেই অনুপ্রবেশ নীতি নিয়ে ঢাকাকে নতুন করে বার্তা দিল নয়া দিল্লি। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারতে বসবাসকারী অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে ভারত। পুশ ব্যাক প্রক্রিয়া চালু থাকবে। আর তাতে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপি জেতার পরই বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ভারতের পুশ-ব্যাক নিয়ে। অর্থাৎ ভারত থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। আশা প্রকাশ করেছিলেন যে এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটবে না। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ভারত (India-Bangladesh) থেকে যদি অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়, তাহলে ঢাকাও কড়া ব্যবস্থা নেবে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই মুখ খোলেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অবৈধ অভিবাসীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবেই। অবশ্যই সবকিছু খতিয়ে দেখে তবেই পুশ-ব্যাকের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে বেশ কিছু মন্তব্য আমাদের চোখে পড়েছে। অবৈধ বাংলাদেশিদের ভারত থেকে প্রত্যর্পণের মূল বিষয়টির প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে এই মন্তব্যগুলোকে। আর তার জন্য বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন।” তিনি আরও জানিয়েছেন,বাংলাদেশে ২ হাজার ৮৬০টিরও বেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় আছে। এই বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি,বাংলাদেশ নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করবে। যাতে অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যর্পণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হতে পারে।”
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জিততেই আরও একটা বিষয় নিয়ে কিন্তু আলোচনা শুরু হয়েছে। তিস্তা জল চুক্তি। বাংলাদেশের শাসক দল বিএনপি অভিযোগ করেছে, এতদিন মমতার সরকারের জন্যই ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা জল চুক্তি আটকে ছিল। এই বিষয়ে সংবাদসংস্থা এএনআই-কে বিএনপি-র তথ্য সচিব আজ়িজুল বারি হেলাল বলেন, “তিস্তা জল চুক্তির মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার বিজেপি সরকার হয়তো নরেন্দ্র মোদী সরকারের সঙ্গে কাজ করবে।” একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করে জানান, খুব শীঘ্রই এই ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ আলোচনা করবে।