
জয়পুর: হরমুজ় পেরোচ্ছিল ভারতের জাহাজ। ঠিক সেইসময়ই বিকট শব্দ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছুটে এল একের পর এক গুলি। সেইসময় জাহাজে ছিলেন ২১ জন ক্রু সদস্য। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভারতের এক নাবিক। তিনি রাজস্থানের বাসিন্দা। সেই ভয়ানক মুহূর্তের অভিজ্ঞতা তাঁর পরিবারকে ফোনে জানিয়েছেন। এই মুহূর্তে ইরানের হাতে আটক রয়েছে সেই ভারতীয় জাহাজ। ওই জাহাজেই আটকে রয়েছেন ওই নাবিক-সহ ক্রু-সদস্যরা।
ভারতের জাহাজ আটক ইরানের সেনার
ইরানের ইসলামিক রেভিউলেশনারি গার্ড কর্পস ভারতের একটি জাহাজ আটক করেছে। ওই জাহাজের নাম ‘এপামিনোনডেস’। ভারতের দিকে আসছিল ওই জাহাজটি। গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছনোর কথা ছিল। প্রায় তিন-চার দিন ধরে ইরানের থেকে অনুমতির অপেক্ষায় হরমুজ়েই আটকে ছিল। তারপর তা হরমুজ় পেরোনোর সময়ই আটক করা হয়। ওই জাহাজে ছিলেন রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগরের বাসিন্দা ৩৮ বছরের সঞ্জয় মাহার। জাহাজ আটক হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই উদ্বিগ্ন ছিল তাঁর পরিবার। পরে সঞ্জয় নিজেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ফোনে ভয়াবহ অভিজ্ঞতাকেও বর্ণনা করেন।
হরমুজ় প্রণালী পেরোনোর সময়ই পরপর গুলি
সঞ্জয়ের বাবা ওম প্রকাশ মাহার বলেন, “হরমুজ় প্রণালী অতিক্রম করার সময় ইরানের দিক থেকে গুলি চালানো হয়। সেইসময় জাহাজের প্রত্যেক নাবিক জাহাজের ভেতরে একটি নিরাপদ স্থানে চলে যান।” সঞ্জয় তাঁর বাবাকে জানিয়েছেন, তিনি নিরাপদে রয়েছেন। কিন্তু, সঞ্জয়ের বাবা বলেন, ” আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করছি, জাহাজে থাকা সকল ভারতীয় নাগরিকরা যেন নিরাপদে প্রত্যাবর্তন করেন।” সঞ্জয়ের পরিবার জানিয়েছে, প্রায় ১৫ বছর ধরে নৌবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন তাঁদের ছেলে। ২০ দিন আগেই সৌদি আরবে দায়িত্ব পালনের জন্য বাড়ি ছেড়েছিলেন।
আর কী বলছে সঞ্জয়ের পরিবার?
সঞ্জয়ের ভাই সুভাষ মাহার জানিয়েছেন, স্থানীয় বিধায়ক জয়দীপ বিহানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তাঁরা। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা বিধায়ককে জানিয়েছি এবং বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করার জন্য অনুরোধ করেছি। আমরা আশা করি, সরকার হস্তক্ষেপ করে সবাইকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনবে।” জানা গিয়েছে, ওই জাহাজে ভারত,ইউক্রেন ও শ্রীলঙ্কার নাবিকরাও রয়েছেন।