MLC Election Results: উত্তর প্রদেশ-কর্নাটকে উঠল গেরুয়া ঝড়, নাগপুরে বড় জয় পেল কংগ্রেস!

4 States MLC Elections: কর্নাটকে চারটি বিধান পরিষদ আসনেই জয় পেয়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA)। খাতা খুলতে পারেনি রাজ্যের শাসক দল কংগ্রেস। এই ফল কংগ্রেস সরকারের কাছে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজেপি তিনটি আসনে জয় পেয়েছে।

MLC Election Results: উত্তর প্রদেশ-কর্নাটকে উঠল গেরুয়া ঝড়, নাগপুরে বড় জয় পেল কংগ্রেস!
বিধান পরিষদের নির্বাচনে কোন দল কেমন ফল করল?Image Credit source: PTI

|

Oct 29, 2026 | 3:00 PM

নয়া দিল্লি: চার রাজ্যের ২৮টি বিধান পরিষদ আসনের নির্বাচনে ভালো ফল বিজেপি ও তাদের জোটসঙ্গী দলগুলির। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ ও কর্নাটকে ভালো ফল করল বিজেপি ও তার সহযোগী দলগুলি। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রে লড়াই চালিয়ে নাগপুর আসন নিজেদের দখলে রাখল বিরোধী মহা বিকাশ আগাড়ি জোট (MVA)। এই নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) মূল ঘাঁটি নাগপুরে ফের জয় পেল কংগ্রেস।

নাগপুরে পরপর দ্বিতীয়বার জয় কংগ্রেসের-

মহারাষ্ট্রের নাগপুর ডিভিশন গ্র্যাজুয়েটস কেন্দ্র থেকে টানা দ্বিতীয়বার জয় পেল কংগ্রেস। মহা বিকাশ আগাড়ি (MVA)-র সমর্থন পাওয়া কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ গোবিন্দরাও ওয়ানজারি, বিজেপি প্রার্থী সুধাকর কোহলেকে ৩,২৭১ ভোটে পরাজিত করেছেন। চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনে এই জয়ের মাধ্যমে নিজেদের খাতা খুলল কংগ্রেস।

এই জয় রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, নাগপুর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসের নিজের শহর। পাশাপাশি, এই এলাকা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকড়ীর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত।

মহারাষ্ট্রের মোট পাঁচটি বিধান পরিষদ কেন্দ্রের মধ্যে শাসক মহাযুতির দুই শরিক বিজেপি ও শিবসেনা একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে, বাকি তিনটি আসনে জয় পেয়েছে মহা বিকাশ আগাড়ি জোট।

তিনটি কেন্দ্রের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলেও, দু’টি আসনে গণনা চলছিল রাত পর্যন্ত। পুণে গ্র্যাজুয়েটস কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছে এনসিপি (শরদ চন্দ্র পওয়ার)-র দল। তাদের দাবি, ছত্রপতি সম্ভাজিনগর (ঔরঙ্গাবাদ) গ্র্যাজুয়েটস কেন্দ্রেও তারা এগিয়ে রয়েছে। ২০২৩ সালে অবিভক্ত এনসিপি ভেঙে যাওয়ার আগে এই দু’টি আসনই তাদের দখলে ছিল। বর্তমানে এনসিপির অজিত পওয়ারের দল মহাযুতির শরিক।

উত্তর প্রদেশে ১১টির মধ্যে ৬টি আসন বিজেপির-

উত্তর প্রদেশে বিধান পরিষদের ১১টি আসনের মধ্যে ছ’টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। সমাজবাদী পার্টি (SP) জিতেছে তিনটি আসনে। বিজেপি জিতেছে আগ্রা গ্র্যাজুয়েটস, বরৈলি-মোরাদাবাদ টিচার্স, লখনউ টিচার্স এবং মিরাটের টিচার্স ও গ্র্যাজুয়েটস—এই কেন্দ্রগুলিতে। পাশাপাশি, গোরক্ষপুর-ফৈজাবাদ টিচার্স কেন্দ্রেও জয়ী হয়েছে বিজেপি। তবে এই আসনে নির্দল প্রার্থী রাজীব যাদব ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন।

অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টি এলাহাবাদ-ঝাঁসি গ্র্যাজুয়েটস কেন্দ্র এবং বারাণসী ও আগ্রা-আলিগড় টিচার্স কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছে।

কর্নাটকে চারটি আসনেই NDA-র জয়

কর্নাটকে চারটি বিধান পরিষদ আসনেই জয় পেয়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA)। খাতা খুলতে পারেনি রাজ্যের শাসক দল কংগ্রেস। এই ফল কংগ্রেস সরকারের কাছে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজেপি তিনটি আসনে জয় পেয়েছে। উত্তর-পূর্ব টিচার্স কেন্দ্র থেকে জিতেছেন শশীল জি নামোশি, পশ্চিম গ্র্যাজুয়েটস কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন এসভি সানকানুর এবং দক্ষিণ-পূর্ব গ্র্যাজুয়েটস কেন্দ্র থেকে জিতেছেন কে এম সুরেশ। বাকি আসন পেয়েছে বিজেপির সহযোগী দল জনতা দল (সেকুলার) বা জেডিএস (JDS)। বেঙ্গালুরু টিচার্স কেন্দ্র থেকে ৯০৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন এ পি রঙ্গনাথ।

বিহারে বিজেপির দুই আসনে জয়, গণনা চলছে আরও একটিতে

বিহারে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, দু’টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। তিরহুত টিচার্স কেন্দ্র থেকে জিতেছেন নরেন্দ্র সিং এবং কোসি গ্র্যাজুয়েটস কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন এন কে যাদব। দারভাঙা গ্র্যাজুয়েটস কেন্দ্রেও গণনা চলাকালীন এগিয়ে ছিল বিজেপি।

রাজ্যের অন্যান্য ঘোষিত ফলের মধ্যে পটনা গ্র্যাজুয়েটস কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছেন জেডিইউ-র প্রার্থী নীরজ কুমার। পটনা টিচার্স কেন্দ্র থেকে জিতেছেন আরজেডি প্রার্থী সঞ্জীব কুমার। দারভাঙা টিচার্স কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজ পার্টির প্রার্থী এস পি রাই। এ ছাড়া, সরণ টিচার্স কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী রাহুল রাজ এবং তিরহুত গ্র্যাজুয়েটস কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী বনশীধর ব্রিজওয়াসি জয় পেয়েছেন।

চার রাজ্যের এই নির্বাচনের ফলাফলে উত্তর প্রদেশ ও কর্নাটকে বিজেপি এবং তার সহযোগী দলগুলির সাফল্য যেমন সামনে এসেছে, তেমনই মহারাষ্ট্রের নাগপুরে কংগ্রেসের জয় বিরোধী এমভিএ (MVA)-কে অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে।

বিধান পরিষদ কী?

মূলত রাজ্যে বিধানসভা থাকলেও, কিছু রাজ্যে বিধানসভার পাশাপাশি আরও একটি কক্ষ থাকে। সেটি হল বিধান পরিষদ। এর সদস্যদের বলা হয় এমএলসি (MLC)। যেমন, উত্তর প্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকে বিধান পরিষদ রয়েছে।

বিধান পরিষদের সদস্য কীভাবে নির্বাচিত হন?

মূলত পাঁচভাবে সদস্য নির্বাচিত হন বা মনোনীত হন।

১. পুরসভা ও পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা: স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে কিছু সদস্য নির্বাচন করেন।

২. স্নাতক ভোট: নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা স্নাতকেরা ভোট দিয়ে কিছু সদস্য নির্বাচন করেন।

৩. শিক্ষক ভোট: নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা শিক্ষকেরা ভোট দিয়ে কিছু সদস্য নির্বাচন করেন।

৪. বিধায়ক ভোট: রাজ্যের বিধায়কেরা ভোট দিয়ে বিধান পরিষদের কিছু সদস্য নির্বাচন করেন।

৫. রাজ্যপাল: সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প, সমাজসেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের রাজ্যপাল সদস্য হিসেবে মনোনীত করতে পারেন।

সদস্যদের মেয়াদ কত দিন?

বিধান পরিষদের একজন সদস্যের মেয়াদ ছয় বছর। প্রতি দুই বছর অন্তর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্য অবসর নেন। তাঁদের জায়গায় নতুন সদস্য আসেন। তাই বিধান পরিষদ কখনও পুরোপুরি ভেঙে যায় না। সহজ করে বললে, বিধান পরিষদের সব সদস্যকে সাধারণ মানুষ সরাসরি ভোট দিয়ে নির্বাচন করেন না। কেউ স্নাতক ও শিক্ষকদের ভোটে, কেউ বিধায়কদের ভোটে, আবার কেউ রাজ্যপালের মনোনয়নে সদস্য হন।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us