
আহমেদাবাদ: নকশালবাদ শেষ হয়েছে। তবে ‘দিমাগি নকশাল’দের বিপদ এখনও কাটেনি। দেশকে তাঁদের থেকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। শনিবার গুজরাটের একতা নগরের প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতীয় একতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন বিরোধীদেরও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।
কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
জাতীয় একতা দিবসের অনুষ্ঠান থেকে বিরোধীদের নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের মতো মহান ব্যক্তিত্বরা যখন দেশের সংবিধান তৈরি করেছিলেন, তখন তাঁরা শাসকপক্ষ ও বিরোধীপক্ষের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন। গণতন্ত্রে এই দুই পক্ষের ভূমিকা ও গুরুত্বও তাঁরা ব্যাখ্যা করেছিলেন। গণতন্ত্রে বিরোধীদের দায়িত্ব হল সরকারের নীতির বিরোধিতা করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বর্তমানে দেশের বিরোধীপক্ষ নিজেদের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে বিরোধিতার পরিবর্তে বাধা সৃষ্টিকারী পক্ষ হয়ে উঠেছে।”
বিরোধীদের এই বিরোধিতার কারণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নিজেদের হতাশা ও নিরাশা থেকে দেশের উন্নয়নের পথে বাধা তৈরি করছে তারা। এটা বিরোধিতা নয়, বরং উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা। বিরোধিতাকেই তারা নিজেদের রাজনীতির হাতিয়ার করে তুলেছে। সংবিধানের মর্যাদাও ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এই শক্তিগুলি ক্রমাগত দেশে বিভাজনের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতমাতার সন্তানদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার চক্রান্ত চলছে। গত এক দশকের হতাশা এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিদেশে কে কার সঙ্গে দেখা করছেন, ভারতবিরোধী শক্তিগুলি কাকে সমর্থন করছে, কে ভারতের শত্রুদের ভাষায় কথা বলছে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে এই শক্তিগুলির মোকাবিলা করতে হবে।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা-
সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদী। তাঁর অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এই প্রবণতার মোকাবিলা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে নকশালবাদের অবসান ঘটানো হয়েছে। কিন্তু এখনও ‘দিমাগি নকশাল’দের বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। তাই দেশকে সবসময় তাঁদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট, ভারতকে আঘাত করতে পারেনি: মোদী
গত কয়েক মাসে বিশ্বকে জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে দেখা গিয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বিশ্বের একাধিক দেশে পেট্রল ও ডিজেল কেনার উপর পর্যন্ত সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। ভারতের জনসংখ্যা বিপুল এবং দেশে পর্যাপ্ত পেট্রোলিয়াম উৎপাদন হয় না। তাই অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, এই সংকটে ভারতই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্ত আশঙ্কার মধ্যেই ভারতবিরোধী শক্তিগুলিও সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ভারতের সক্ষমতার জোরেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব দেশের নাগরিকদের উপর পড়তে দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “এটি যেমন দেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সাফল্য, তেমনই এর পিছনে দেশবাসীর ঐক্য ও সংহতিরও বড় ভূমিকা রয়েছে। যখন দেশ বাইরের চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় সমাধান খুঁজছিল, তখন দেশের ভিতরেও কিছু শক্তি মিথ্যা ও গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছিল। কিন্তু দেশবাসী রাষ্ট্রের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এটাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি, এটাই আমাদের সাহসের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।”
মোদীর কথায়, আজ ভারত আগের তুলনায় অনেক বেশি সুরক্ষিত। দেশ এখন আরও বেশি সংকল্পবদ্ধ। এর অন্যতম বড় কারণ দেশবাসীর ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাস। আর এই আত্মবিশ্বাস আসে সাফল্য থেকে, সরকার ও প্রশাসনের সংবেদনশীল মনোভাব থেকেও।
ভারতের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ-
এদিন দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতে দারিদ্র্য দূর করার কথা বলা হচ্ছে। দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটও চাওয়া হয়েছে। কিন্তু দেশে দারিদ্র্যের প্রকৃত পরিস্থিতি কী ছিল, তা সকলেরই জানা। তিনি বলেন, যাঁরা দারিদ্র্য দূর করার স্লোগান দিয়েছিলেন, তাঁরাই ক্রমশ ধনী হয়েছেন।
নকশালবাদ ও মাওবাদমুক্ত করার সংকল্প পূরণ হয়েছে: মোদী
গত বছর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছিল। আর এ বছর তাঁর ১৫১তম জন্মবার্ষিকীতে দেশ একটি সংকল্প পূরণ করতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গত বছর সর্দার প্যাটেলের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আমি বলেছিলাম, যতদিন না দেশ নকশালবাদ ও মাওবাদ থেকে মুক্ত হচ্ছে, ততদিন আমরা শান্তিতে বসে থাকব না। মাত্র এক বছর পরেই আমরা সেই সংকল্প পূরণ করেছি। আজ দেশে নকশালবাদের অবসান ঘটেছে।”