
নয়া দিল্লি: নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের (Neet Question Paper Leaked) অভিযোগে গ্রেফতার আরও এক শিক্ষক। পুনে (Pune) থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। জানা গিয়েছে, বোটানি (Botany) ও জ়ুলজির (Zoology) যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে নিটের, তার পিছনে ছিলেন এই পুনের শিক্ষক। সিবিআই তদন্তে এমনই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কিংপিন পিভি কুলকার্নিকে পুনে থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ৯ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ধৃতের নাম মনীষা গুরুনাথ মানধারে। বোটানির শিক্ষক তিনি। সিবিআই জানিয়েছে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-তে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (স্নাতক) প্রক্রিয়ায় কাজ করেছিলেন। এপ্রিল মাসে তিনি মনীষা ওয়াগমারের মাধ্যমে NEET পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিজের বাড়িতে এই ছাত্রছাত্রীদের কোচিং ক্লাস দিতেন। এই মনীষাকে কিন্তু আগেই গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তারা জানিয়েছে, বোটানি ও জুলজির থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে সেগুলি তাদের নোটবুকে ও পাঠ্যবইয়ে টুকে নিতে বলেছিলেন। তদন্তকারী সংস্থাটি আরও জানায়, বেশিরভাগ প্রশ্নই ৩ মে-র নিট-ইউজি পরীক্ষার আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল।
সিবিআই গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে ছয়টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে বেশকিছু নথি, ল্যাপটপ, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া নয়জন অভিযুক্তকে দিল্লি, জয়পুর, গুরগাঁও, নাসিক, পুনে এবং আহলিয়ানগরের বাসিন্দা। এদের মধ্যে পাঁচজন সাত দিন ধরে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। পুনে থেকে গ্রেফতার হওয়া দু’জনকে দিল্লিতে আনা হচ্ছে। বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
সিবিআই জানিয়েছে, তাদের তদন্তে এখনও পর্যন্ত কেমিস্ট্রি ও জীববিজ্ঞানের প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রকৃত উৎস এবং সেইসব দালালদের খুঁজে পেয়েছে, যারা লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিশেষ কোচিং ক্লাসে যোগ দেওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। এই কোচিং ক্লাসগুলোতে নিট ইউজি (NEET UG)-তে আসতে পারে এমন প্রশ্ন মুখে বলে দেওয়া হত এবং আলোচনা করা হত।
উল্লেখ্য, নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রকাশ্যে আসতেই পরীক্ষা বাতিল করে দিয়েছিল নিয়ামক সংস্থা NTA। যার জেরে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী। তবে, নতুন করে আবার পরীক্ষার দিনও ঘোষণা করা হয়েছে। ২১ জুন হবে পরীক্ষা। অনলাইনের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।