
নয়া দিল্লি: নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস (NEET Exam Paper Leak) নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। কীভাবে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে, তা নিয়ে চর্চা দেশজুড়ে। এর মধ্য়েই প্রকাশ্যে এল নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অন্যতম মাথার কর্মকীর্তি। শুভম খয়েরনার নামক ওই অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীদের নিট পরীক্ষায় ৫০০ থেকে ৬০০ নম্বর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিত। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকেই এইসব তথ্য সামনে এসেছে।
নিট ২০২৬-র প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তভার নিয়েছে সিবিআই (CBI)। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ (NTA) ইতিমধ্যেই ৩ মে-র পরীক্ষা বাতিল করেছে। আজ ঘোষণা করা হয়েছে যে আগামী ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা হবে।
এদিকে তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল মাথা, নাসিক থেকে গ্রেফতার হওয়া শুভম খয়েরনার তাঁর সাপ্লায়ার যশ যাদবকে গত এপ্রিল মাসে জানিয়েছিল যে প্রশ্নপত্রের কপি জোগাড় হয়ে গিয়েছে।
সূত্রের খবর, গত ২৯ এপ্রিল লিক পেপার নিয়ে চুক্তি চূড়ান্ত হয়। এরপরে শুভম ও তাঁর সঙ্গীরা পড়ুয়াদের প্রলোভন দেখাতে শুরু করে। তাদের বলা হয় যে ফাঁস করা প্রশ্নপত্র নিলে তারা ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনেক বেশি মার্কস পাবে এবং দেশের নামকরা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হতে পারবে।
তদন্তে জানা যায়, মূল অভিযুক্ত ও অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হত। তারা পরীক্ষার্থীদের প্রলোভন দেখাত যে ৭২০ নম্বরের নিট পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে ৫০০-৬০০ নম্বর পাবে।
সিবিআই ইতিমধ্যেই ওই মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে। চ্যাট লগ সিজ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের কপিও পাওয়া গিয়েছে। মহারাষ্ট্র থেকে হরিয়ানার গুরুগ্রাম, রাজস্থানের জয়পুর ও শিকর- যেগুলি সবথেকে বড় ডাক্তারি পরীক্ষার কোচিং হাব, সেখানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া জম্মু-কাশ্মীর, বিহার ও কেরলেও ফাঁস করা প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
৩০ বছর বয়সী শুভম খয়েরনার নাসিকের ইন্দিরানগরের বাসিন্দা। আয়ুর্বেদিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারির পড়ুয়া ছিল সে, তবে কখনওই ডাক্তারি পাশ করা হয়নি তাঁর। অভিযুক্ত ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে নিট-ইউজি-র প্রশ্নপত্র কেনে এবং হরিয়ানায় একজনের কাছে ১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেয়।