
শ্রীনগর: সংবিধান থেকে বাদ পড়েছে ৩৭০ অনুচ্ছেদ, বিশেষ মর্যাদা হারিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। বিগত পাঁচ বছরে নানা পরিবর্তন এসেছে উপত্যকায়। কমেছে সন্ত্রাসবাদ, তৈরি হয়েছে নতুন স্কুল, কলেজ থেকে হাসপাতাল। কিন্তু নির্বাচন? বিগত কয়েক বছরে জম্মু-কাশ্মীরের ভোল বদলালেও, বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে সদুত্তর দিতে পারল না জাতীয় নির্বাচন কমিশন। লোকসভার সঙ্গেই ওড়িশা, অন্ধ্র প্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ ও সিকিমে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা করা হলেও, এবারও জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা করতে পারল না জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এর কারণ কী?
শনিবার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার জানান, লোকসভার সঙ্গে সঙ্গেই চার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে। জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচন বাকি থাকলেও, তা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না নিরাপত্তার কারণে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে শেষবার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল জম্মু-কাশ্মীরে। এরপর থেকে কোনও নির্বাচিত সরকার ছাড়াই চলছে উপত্যকার প্রশাসন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার জানান, নিরাপত্তার কারণে জম্মুৃ-কাশ্মীর প্রশাসনই লোকসভার সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আয়োজন করতে অস্বীকার করেছে। লোকসভা নির্বাচন শেষ হলেই জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। তখন হাতে পর্যাপ্ত বাহিনীও থাকবে নিরাপত্তার জন্য।
এর আগে, ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময়ও তৎকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা একই কারণ দেখিয়েছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের নির্বাচন না হওয়ার জন্য। লোকসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার কয়েক মাস পরই কেন্দ্রীয় সরকার, ২০১৯ সালের ৫ অগস্ট সংবিধান থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ অবলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। বিশেষ মর্যাদা হারায় জম্মু-কাশ্মীর। এটিকে ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে ঘোষণা করা হয়।