
নয়াদিল্লি: জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগের কোনও জায়গাই নেই। বৃহস্পতিবার সংসদে দাঁড়িয়ে ‘আলো দেখালেন’ কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। সাফ জানিয়ে দিলেন, “জ্বালানি নিয়ে দেশের অন্দরে কোনও সংকট নেই।” পাশাপাশি, আসন্ন দিনগুলিতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।
এদিন সংসদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “ভারতের কাছে যথেষ্ট তেল মজুত রয়েছে। সুতরাং চিন্তা বা উদ্বেগের কোনও জায়গা নেই। ডিজেল, পেট্রোল এবং কেরোসিন নিয়ে কোনও ঘাটতি তৈরি হয়নি। দেশজুড়ে সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে। সাধারণের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত তেল রয়েছে।” কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই দাবি করলেও তৃণমূল স্তরে পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন।
ইতিমধ্যে কলকাতা, মুম্বই, বেঙ্গালুরুতে জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে হোটেল-রেস্তরাঁ ব্যবসায়ীরা। বাজারে মিলছে না বাণিজ্যিক সিলিন্ডার। বুকিংয়ের জন্য ফোন তুলছেন না গ্যাসের ডিলাররা, অভিযোগ আমজনতার। বিকল্প খুঁজতে ইনডাকশন ও বৈদ্যুতিক রান্নার সামগ্রীর দোকানে পড়েছে ভিড়। এককথায় দেশজুড়ে আতঙ্কের পরিস্থিতি। এদিকে সংসদে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী জানালেন, “দেশে এলপিজি উৎপাদন ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গৃহস্থগুলিকে ১০০ শতাংশ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ডেলিভারি প্রক্রিয়াও স্বাভাবিক রয়েছে।” বুধবার পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যৌথ সচিব বলেন, “দেশজুড়ে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আড়াই দিনের মধ্য়ে সিলিন্ডার ডেলিভারি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় গ্যাস বুকিংয়ের মধ্য়ে ২৫ দিনের ব্যবধান অনিবার্য।”
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতে যে দাগ কাটতে পারেনি, সেই দাবিতেই সিলমোহর দিতে নাম না-করে পাকিস্তানের তুলনা টানেন তিনি। সারাবছর যে দেশে জ্বালানি সংকট, তাঁদের প্রসঙ্গ তুলে হরদীপ সিং পুরী বলেন, “আমাদের প্রতিবেশী একটি দেশ দুই সপ্তাহের জন্য সমস্ত স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে, সরকারি অফিসের কাজ সপ্তাহে চার দিনে নামিয়ে এনেছে, ৫০ শতাংশ সরকারি কর্মচারীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে, সরকারি যানবাহনের জ্বালানি ভাতা অর্ধেক করে দিয়েছে এবং ৬০ শতাংশ সরকারি গাড়ি রাস্তা থেকে তুলে নিয়েছে।” কিন্তু ভারতে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। শুধু হরমুজ নয়, নানাবিধ বিকল্প পথে তেল আমদানির মাধ্যমে নাগরিকদের স্বার্থ নয়াদিল্লি সুনিশ্চিত করতে পেরেছে বলেই দাবি তাঁর।