
নয়া দিল্লি: জ্বালানি নিয়ে বাড়ছে চিন্তা। বড়সড় সঙ্কট তৈরি হবে না তো? ইরানের হামলায় যে বিরাট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা সামলে তেল উৎপাদন (Oil Production) প্রাক-যুদ্ধকালীন স্বাভাবিকতায় নিয়ে যেতে সময় লাগবে যথেষ্ট। এর জন্য খরচও বিরাট। গতকাল, রবিবার ফের একপ্রস্থ বৈঠকের পর একথা জানিয়ে দিল ওপেক (OPEC) অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি।
ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে তেলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। দিন কয়েক আগেই বৈঠকে বসেছিল ওপেক অন্তর্ভুক্ত ৮টি দেশ। একে ইরান, ইরাক, সৌদি আরবের তেলের ভাণ্ডারগুলির উপরে হামলা, তার উপরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ, এই পরিস্থিতে কোথা থেকে তেল ও জ্বালানি আসবে, তা নিয়ে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ওপেক অন্তর্ভুক্ত দেশগুলিও বৈঠক করে তেল উৎপাদন ও সরবরাহের বিকল্প রুট খুঁজছিল। তবে বৈঠকে জানানো হল যে যুদ্ধের জেরে ব্য়াপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে, আগের মতো তেল উৎপাদন করতে অনেকটাই সময় লেগে যাবে।
যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমিত পরিকাঠামোতেই তেল উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি করবে ওপেক অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি। এমনটাই জানিয়েছে তারা। এক্ষেত্রে বাড়তি উৎপাদনের ওপর জোর দেবে রাশিয়া।
প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনার ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দিয়েছে আমেরিকা।
রাশিয়া উৎপাদন বাড়ালেও, ভারত দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে সেই সুবিধা নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করল ভারতের অষ্টম জাহাজ। ১৫ হাজার ৪০০ টন এলপিজি নিয়ে ভারতের উপকূলের দিকে আসছে এই জাহাজ। হরমুজ প্রণালীতে এখনও আটকে ১৬ টি জাহাজ। এরমধ্যে রয়েছে এলপিজিবাহী জগ বিক্রম জাহাজও।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে জোগানের কোনও অভাব নেই। বাণিজ্যিক এলপিজির চাহিদারও ৮০ শতাংশ মেটাতে সক্ষম সরকার। গত এক মাসে ৮ লক্ষ মানুষকে পাইপ গ্যাস কানেকশন দেওয়া হয়েছে। ১৬ হাজার এলপিজি কানেকশন ছেড়ে দিয়েছেন উপভোক্তারা।