
নয়া দিল্লি: পহেলগাঁও হামলার (Pahalgam terror attack) স্মৃতি এখনও দগদগে। পাকিস্তান থেকে ঢুকে এসে জঙ্গিরা জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় নৃশংস হামলা চালায়। বেছে বেছে, ধর্ম জেনে হত্যা করা হয় নিরাপরাধ পর্যটকদের। এবার পহেলগাঁও হামলা নিয়ে ১৫৯৭ পাতার চার্জশিট জমা দিল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। ওই চার্জশিটে উঠে এল চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য।
পহেলগাঁওতে হামলা চালিয়েছিল তিন জঙ্গি। তারা ২৬ জন নাগরিক, যাদের মধ্যে ২৫ জন পর্যটক এবং একজন ঘোড়াচালককে হত্যা করে। এনআইএ-র জমা দেওয়া চার্জশিটে জানা গিয়েছে, তিন জঙ্গি এই নৃশংস হত্যালীলা চালানোর আগে গাছের নীচে বসে মধ্য়াহ্নভোজ সেরেছিল।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে যে লস্কর-ই-তৈবা ও দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট নামক দুই পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছিল।
ফইজল জাট ওরফে সুলেমান শাহ, হাবিব তাহির ওরফে জিবরান ও হামজা আফগানি নামক তিন পাক জঙ্গি কাশ্মীরের স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ আহমেদের কুড়েঘরে পৌঁছয়। তারা জল চায়। তারপর জানায় যে অনেক পথ পেরিয়ে এসেছে। রাতে যেন তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়।
পারভেজ নামক এক সহিস (ঘোড়াচালক) এনাইএ-র তদন্তকারীদের বয়ানে বলেন, “আমার মামা এসে বলেন যে আমরা সবাই যেন চুপ করে থাকি। এরপর ওঁ বাইরে যান এবং কয়েক সেকেন্ড পর ফেরত আসেন। তাঁর সঙ্গে তিন বন্দুকধারী ব্যক্তি ছিল। ওঁরা বসে, আমায় জল দিতে হবে। জানায় যে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে তারা।”
উল্লেখ্য, এই পারভেজ ও তাঁর মামা জোথারকে এনআইএ গত বছরের ২২ জুন গ্রেফতার করেছিল তিন জঙ্গিকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য।
এই দিনেই বৈসরণে হামলা চালায় পাক জঙ্গিরা। এনআইএ চার্জশিটে জানা গিয়েছে, বৈসরণ উপত্যকার ওই পার্কে ঢোকার আগে জঙ্গিরা গাছের নীচে বসে লাঞ্চ সেরেছিল। নিজেদের গায়ে কম্বল জড়িয়ে নিয়েছিল সঙ্গে থাকা বন্দুক ঢাকতে এবং বাকি পর্যটকদের সঙ্গে মিশে যেতে। দুই জঙ্গি পাহাড়ি নদীর কাছে যায় পর্যটকদের গতিবিধির উপরে নজর রাখতে এবং হামলার ছক কষতে।
নিজেদের ব্যাগগুলি রেখে তারা পার্কের রেলিংয়ের কাছে যায়। জানা গিয়েছে, এক জঙ্গির মাথায় হেলমেট পরা ছিল, তাতে গোপ্রো অ্যাকশন ক্যামেরা (GoPro action camera) বসানো ছিল নৃশংস হত্যালীলা রেকর্ড করার জন্য।
দুই জঙ্গি মেইন গেটের দিকে যায়, আরেক জঙ্গি জিপলাইনের দিকে গিয়ে দাঁড়ায়। এমনভাবেই দাড়িয়েছিল তারা যে ‘কিল জ়োন’ থেকে যেন কেউ পালাতে না পারে।
২টো ২৩ মিনিটে প্রথম গুলি চলে এম-৪ কার্বাইন রাইফেল থেকে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বাকি দুই জঙ্গিও একে-৪৭ রাইফেল নিয়ে সামনের খাবারের স্টল ও পাহাড়ের ঢালে ঘুরে বেড়ানো পর্যটকদের উপরে গুলি চালাতে শুরু করে। পর্যটকদের ধরে ধরে কলমা জিজ্ঞাসা করা হয়, যারাই বলতে পারেননি, তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘোড়া চালক সইদ আদিল হুসেন শাহ জঙ্গিদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে, তাঁকেও গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা।
পালানোর সময়ও জঙ্গিরা তিনজনকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে, যারা গাছের পিছনে আশ্রয় নিয়েছিল। এরপর পার্ক থেকে বেরিয়ে তারা উল্লাসে শূন্যে গুলি চালায়।
এনআইএ চার্জশিটে জানিয়েছে. পহেলগাঁও হামলার পর, ২৯ জুলাই ‘অপারেশন মহাদেব’-এর অধীনে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী অভিযুক্ত তিন জঙ্গিকেই শ্রীনগরের অদূরে জঙ্গলে খুঁজে বের করে এবং নিকেশ করে। পাকিস্তানকে জবাব দিতে ‘অপারেশন সিদুঁর’ অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী।