
নয়া দিল্লি: ১০০ দিনের কাজ বা মনরেগা (MGNREGA) প্রকল্পের কাজের বকেয়া টাকা নিয়ে এমনিই বিতর্কের শেষ নেই। এবার মনরেগার টাকা দেওয়া নিয়ে সুপারিশ করল সংসদীয় প্য়ানেল। তাদের বক্তব্য, মনরেগা প্রকল্পের কর্মীদের জন্য আধার ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম অপশনাল রাখা হোক। আধার ভিত্তিক পেমেন্টের পাশাপাশি বিকল্প কোনও ব্যবস্থাও যেন রাখা হয়, যাতে কর্মীরা তাদের নায্য পারিশ্রমিক পান।
লোকসভায় ডিমান্ড ফর গ্রান্টস (২০২৫-২৬) রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ বাধ্যতামূলক করা উচিত নয় কারণ এই ব্যবস্থায় কোনও সমস্যা হলে যোগ্য উপভোক্তারা বাদ পড়তে পারেন। কংগ্রেস সাংসদ সপ্তগিরি শঙ্কর উলাকা, যিনি এই কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন, তিনি বলেন যে বহু ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে যে কর্মীদের অনৈতিকভাবে সিস্টেম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র আধার ও জব কার্ডের রেকর্ডে তথ্যগত ফারাক থাকার কারণে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মনরেগার কাজে পেমেন্টের ক্ষেত্রে আধার ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এবিপিএস প্রক্রিয়ায় সরাসরি কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তাদের পারিশ্রমিক পাঠানো হয়।
কমিটির তরফে সুপারিশ করা হয়েছে যে গ্রামোন্নয়ন দফতর যেন নিশ্চিত করে যে এবিপিএস অর্থাৎ আধার ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম অপশনাল থাকে এবং বিকল্প পেমেন্টের ব্যবস্থা থাকে। এতে কর্মীরা, যাদের আধার কার্ড নেই বা যাদের বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশনের সমস্যা হচ্ছে, তারাও নিজেদের কাজের পারিশ্রমিক পান।
কমিটির আরেকটি প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে মনরেগা-র অধীনে নিশ্চিত কাজের দিন বর্তমানের ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১৫০ দিন করা উচিত। পশ্চিমবঙ্গের যে বকেয়া অর্থ রয়েছে কেন্দ্রের কাছ থেকে, তাও মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে কমিটির সুপারিশে। বলা হয়েছে, আদালতে যে কয়েক বছর মামলা চলছে, সেই সময়টুকু বাদ দিয়ে বাকি বছরগুলির বকেয়া অর্থ যেন মিটিয়ে দেওয়া হয়। উন্নয়নমূলক কাজ যাতে আটকে না থাকে, তার জন্য দ্রুত বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গ্রামোন্নয়ন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২৩ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।