
কর্নাটক: ট্রেনের শৌচাগারে জল না থাকায় ২৪ জনকে নিয়ে মাঝপথেই নেমে যেতে হয়েছিল একটি পরিবারকে। নতুন করে টিকিট কিনতে বাধ্য হতে হয়েছিলেন তাঁরা। সেই পরিবারকেই জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিল কনজিউমার কমিশন। রেলের বিরুদ্ধে পরিষেবার গাফিলতির অভিযোগ তুলে কমিশন এই নির্দেশ দিয়েছে।
অভিযোগকারী জানিয়েছেন, ২০ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৪ জন শিশুকে নিয়ে ২০২৫ সালের এপ্রিলে তিরুপতি-তিরুমালা মন্দির দর্শনের পর ফিরছিলেন তাঁরা। ১৫ এপ্রিল তাঁরা বেঙ্গালুরুর যশবন্তপুর রেল স্টেশন থেকে শিবমোগাগামী একটি ট্রেনে ওঠেন। যাত্রাপথে তাঁদের কোচের শৌচাগারগুলিতে জল ছিল না বলে অভিযোগ।
ওই যাত্রী ট্রেনে থাকা রেল পুলিশ কর্মীদের বিষয়টি জানালেও তাঁরা সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। তাঁদের পরামর্শে তিনি একটি রেল স্টেশনে নেমে স্টেশন মাস্টারের কাছে অভিযোগ জানান। এরপর ১,৭৬০ টাকার নতুন টিকিট কিনে পরিবারটি অন্য একটি ট্রেনে শিবমোগার উদ্দেশে রওনা দেয়।
রেল আধিকারিকরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন যে এই দাবিটি ভিত্তিহীন। এর কোনও উপযুক্ত প্রমাণ নেই। তাঁরা জানান যে স্টেশন থেকে ছাড়ার আগেই কোচগুলিতে জল দেওয়া হয়েছিল এবং ঘটনার দিন কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
ট্রেনের টিকিটসহ নথিপত্রের সমস্ত প্রমাণ পর্যবেক্ষণ করে কমিশন দেখে যে, ওই পরিবার সংশ্লিষ্ট ট্রেনের যাত্রী ছিলেন। কমিশন আরও দেখে যে, অভিযোগকারী তাঁর করা অভিযোগের কপি জমা দিয়েছেন। কিন্তু রেল অভিযোগকারীর দায়ের করা ওই অভিযোগ সম্পর্কে কোনও কথা বলেনি। জলের সমস্যা ছিল না, এমন প্রমাণও পেশ করতে পারেনি রেল।
এই কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম রেলকে ১৬,০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। টিকিট ভাড়া বাবদ ১,০০০ টাকা ফেরত দিতে হবে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০,০০০ টাকা এবং মামলার খরচ বাবদ ৫,০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।