রোগীর হাতে তুলে দিতে হবে ১ লক্ষ ৩ হাজার টাকা, সরকারি হাসপাতালকে নির্দেশ আদালতের, কেন?

Rajasthan High Court on Cardiac Stent Reimbursement: রোগীর আইনজীবী এন এস রাজপুরোহিত জানান, চারটি স্টেন্ট-সহ চিকিৎসার জন্য মোট ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ৮৩২ টাকা খরচ হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে মাত্র ১ লক্ষ ৭০ হাজার ৮০০ টাকা ফেরত দেয়। ফলে ১ লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ বকেয়া থেকে যায়।

রোগীর হাতে তুলে দিতে হবে ১ লক্ষ ৩ হাজার টাকা, সরকারি হাসপাতালকে নির্দেশ আদালতের, কেন?
প্রতীকী চিত্র।Image Credit source: Pexels

Sep 27, 2026 | 2:01 AM

জয়পুর: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন রোগী। স্টেন্টের প্রয়োজন ছিল। অভিযোগ, হাসপাতালে স্টেন্ট না থাকায় জোর করে প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে স্টেন্ট কিনতে বাধ্য করা হয়েছিল রোগী। এবার সেই স্টেন্টের পুরো খরচ রোগীকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিল রাজস্থান হাইকোর্ট। যোধপুর বিদ্যুৎ বিতরণ নিগম লিমিটেড বা JVVNL-কে রোগীর চারটি কার্ডিয়াক স্টেন্টের জন্য খরচ হওয়া মোট ২ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর আগে ওই রোগীকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছিল। বাকি ছিল প্রায় ১ লক্ষ ৩ হাজার টাকা। সেই বকেয়া অর্থ নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশই বহাল রাখল আদালত।

কী হয়েছিল?

মামলাকারী জগদীশ চন্দ্র বিসা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যোধপুরের মথুরা দাস মাথুর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে তাঁর অ্যাঞ্জিওগ্রাফি এবং অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করা হয়। চিকিৎসার সময় তাঁর শরীরে চারটি স্টেন্ট বসানো হয়েছিল। সেই স্টেন্ট কিনতে হয়েছিল বাইরে থেকে।

রোগীর আইনজীবী এন এস রাজপুরোহিত জানান, চারটি স্টেন্ট-সহ চিকিৎসার জন্য মোট ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ৮৩২ টাকা খরচ হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে মাত্র ১ লক্ষ ৭০ হাজার ৮০০ টাকা ফেরত দেয়। ফলে ১ লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ বকেয়া থেকে যায়।

এরপর বিষয়টি আদালতে গড়ায়। ২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজস্থান হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ বাকি অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় JVVNL।

কেন পুরো টাকা দিতে আপত্তি?

মামলায় JVVNL-এর তরফে যুক্তি দেওয়া হয়, রাজস্থান সিভিল সার্ভিসেস(মেডিক্যাল অ্যাটেনডেন্স) রুলস, ২০১৩ অনুযায়ী তিনটির বেশি স্টেন্টের জন্য অর্থ ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই। সেই কারণেই চারটি স্টেন্টের সম্পূর্ণ খরচ ফেরত দেওয়া সম্ভব নয় বলে দাবি করা হয়।

অন্যদিকে, জগদীশ চন্দ্র বিসার তরফে বলা হয়, তাঁর চিকিৎসা হয়েছিল সরকারি হাসপাতালে। ফলে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেরই ছিল। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় কোনও চিকিৎসা সামগ্রী না থাকলে রোগীর কাছে খোলা বাজার থেকে তা কেনা ছাড়া অন্য কোনও উপায় থাকে না। সেক্ষেত্রে সেই খরচ সম্পূর্ণ ফেরত পাওয়া উচিত।

কী বলল হাইকোর্ট?

দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি সঞ্জয় কে আগরওয়াল এবং বিচারপতি বিনীত কুমার মাথুরের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, সরকারি হাসপাতাল প্রয়োজনীয় স্টেন্ট সরবরাহ করতে পারেনি বলে রোগীকে সম্পূর্ণ খরচ ফেরত পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর JVVNL-এর আবেদন খারিজ করে দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। একইসঙ্গে বাকি অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ বহাল রাখে রাজস্থান হাইকোর্ট। অর্থাৎ, চিকিৎসার প্রয়োজনে বাইরে থেকে কেনা চারটি স্টেন্টের জন্য খরচ হওয়া সম্পূর্ণ অর্থই ফেরত পাবেন ওই রোগী।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us