PM Modi: প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারতের লক্ষ্য কী? স্পষ্ট করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

PM Modi on India’s technological progress: কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই পরিবর্তনের স্পষ্ট উদাহরণ দেখা গিয়েছে। যখন বহু দেশ টিকার জোগান এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যায় পড়েছিল, তখন ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে টিকা তৈরি করে। দেশজুড়ে টিকাকরণ কর্মসূচি চালানোর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও টিকা সরবরাহ করে ভারত। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এত বড় পরিসরে এই কর্মসূচি পরিচালনা করার ক্ষমতা আধুনিক ভারতের আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন।

PM Modi: প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারতের লক্ষ্য কী? স্পষ্ট করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীImage Credit source: TV9 Bangla

Oct 27, 2026 | 8:38 PM

নয়াদিল্লি: বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতা নয়। এখন নিজস্ব প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বের সমস্যার সমাধান দেওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে ভারত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত উদীয়মান বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সংক্রান্ত সম্মেলনে যোগ দিয়ে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কথায়, দেশ এখন আর শুধু অন্যদের উদ্ভাবনের উপর নির্ভরশীল নয়।

২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে তিন দিনের এই সম্মেলন। এতে অংশ নিচ্ছেন দেশের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্টার্টআপ সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। উদীয়মান প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করতেই এই সম্মেলনের আয়োজন।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মেলানো। বিদেশে কোনও নতুন আবিষ্কার বা প্রযুক্তিগত সাফল্য এলে তা ভারতে পৌঁছতে বেশ কয়েক বছর সময় লাগত। পরে দেশীয় বিজ্ঞানী ও গবেষকরা সেই প্রযুক্তি গ্রহণ করতেন অথবা সামান্য পরিবর্তন এনে ব্যবহার করতেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মতে, সেই পরিস্থিতিতে এখন মৌলিক পরিবর্তন এসেছে।

বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশ এখন আর শুধু অন্যদের উদ্ভাবনের উপর নির্ভরশীল নয়। তরুণ প্রজন্মের উদ্যম ও আত্মবিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভারতের যুবসমাজ আজ যে দক্ষতা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে এবং যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে, তা উৎসাহ জোগানোর মতো।” প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এখন ভারতের লক্ষ্য শুধুমাত্র বিদ্যমান প্রযুক্তি গ্রহণ করা নয়, বরং এমন সমাধান তৈরি করা, যা দেশের পাশাপাশি গোটা বিশ্বের কাজে আসবে।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই পরিবর্তনের স্পষ্ট উদাহরণ দেখা গিয়েছে। যখন বহু দেশ টিকার জোগান এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যায় পড়েছিল, তখন ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে টিকা তৈরি করে। দেশজুড়ে টিকাকরণ কর্মসূচি চালানোর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও টিকা সরবরাহ করে ভারত। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এত বড় পরিসরে এই কর্মসূচি পরিচালনা করার ক্ষমতা আধুনিক ভারতের আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন।

বিজ্ঞানের ঐতিহ্য ও আত্মনির্ভরতার পথ-

বিজ্ঞানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নতুন নয়। শূন্যের আবিষ্কার, প্রাচীন সংখ্যাপদ্ধতি এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের মতো ঐতিহাসিক অবদানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ভারত তার ঐতিহ্যগত বৈজ্ঞানিক ভিত্তিকেই আধুনিক যুগের উপযোগী করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “অতীতে বিশ্বের কোথাও নতুন কোনও উদ্ভাবন হলে তা আমাদের কাছে পৌঁছতে কয়েক বছর সময় লাগত। আমরা সেই প্রযুক্তি গ্রহণ করতাম অথবা কিছু উন্নতি করে তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতাম। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর ভারত এখন নতুন মানসিকতা ও নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হল, ভারতের জন্য, বিশ্বের জন্য, বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য নতুন প্রযুক্তি তৈরি করা। সেই প্রযুক্তির গতিপথ নির্ধারণ করা এবং বিশ্বের সমস্যাগুলির সমাধান দেওয়ার ক্ষমতা গড়ে তোলা।”

পরমাণু শক্তি ও ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য-

আগামী ৩০ অক্টোবর ডঃ হোমি জাহাঙ্গির ভাবার জন্মবার্ষিকী। তার প্রাক্কালে দেশের শক্তিক্ষেত্রের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরমাণু শক্তিকে অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, পরমাণু জ্বালানির জন্য আমদানির উপর নির্ভরশীলতা দীর্ঘমেয়াদি শক্তি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে দেশীয় উদ্যোগের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মোদী জানান, ভারতের ৫০০ মেগাওয়াটের প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR) কয়েক মাস আগে প্রথমবারের মতো ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ বা নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংসম্পূর্ণ নিউক্লিয়ার চেন রিঅ্যাকশন চালু করার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের পরমাণু প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই অগ্রগতি পরমাণু জ্বালানির জন্য বিদেশের উপর নির্ভরতা কমানো এবং ভবিষ্যতে পরিচ্ছন্ন শক্তির জোগান নিশ্চিত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যেও শক্তিক্ষেত্রে দেশীয় সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us