
নয়া দিল্লি: এশিয়ান প্যারা গেমসে পদকজয়ীদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। বৃহস্পতিবার, পদকজয়ী অ্যাথলিটদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। তাঁদের ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানান তিনি। একইসঙ্গে, এক্স হ্যান্ডেলে তুলে ধরেন ১৪ থেকে ১১৪ পদকের যাত্রায় সাফল্যের ছবি।
সম্প্রতি জাপানে আয়োজিত এশিয়ান প্যারা গেমসে পদকজয়ী ভারতীয় অ্যাথলিটদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অ্যাথলিটদের লড়াই এবং সাফল্য গোটা দেশের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। এবারের এশিয়ান প্যারা গেমসে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দিয়েছে ভারত।” প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রক্ষা খাড়সে। উপস্থিত ছিলেন দু’বারের সোনাজয়ী শীতল দেবী এবং দৃষ্টিহীন স্প্রিন্টার সিমরনও।
অ্যাথলিটদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্যারা স্পোর্টসে ভারতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন মোদী। ২০১০ সালের এশিয়ান প্যারা গেমসে ভারত মাত্র ১৪টি পদক জিতেছিল। তার মধ্যে সোনা ছিল মাত্র একটি। সেখান থেকে এবার ১১৪টি পদক জয়ের সাফল্যকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “১৪ থেকে ১১৪-র এই যাত্রা কেউ কি কখনও কল্পনা করতে পেরেছিলেন? আপনাদের কঠোর পরিশ্রম, খেলাধুলোর প্রতি নিষ্ঠা এবং গড়ে ওঠা সম্পূর্ণ ব্যবস্থার ফলেই এই সাফল্য এসেছে।”
এবারের পদক সংখ্যা ২০২৩ সালে চিনের হাংঝৌ এশিয়ান প্যারা গেমসে ভারতের আগের সেরা পারফরম্যান্সকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। সেবার ভারত ১০৮টি পদক জিতেছিল। এবার জাপানের নাগোয়া প্রতিযোগিতায় ভারতীয় অ্যাথলিটরা পাঁচটি বিশ্বরেকর্ড এবং ন’টি এশীয় রেকর্ড গড়েছেন। ভারতীয় মহিলা অ্যাথলিটদের সাফল্যের কথাও আলাদা করে উল্লেখ করেন মোদী। তাঁর বক্তব্য, ১১১ জন পদকজয়ীর মধ্যে ৩৪ জন মহিলা।
প্রতিযোগিতার শেষ দিনেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা। শেষ দিনে মোট ন’টি সোনা জিতে পদক সংখ্যাকে আগের রেকর্ডের অনেকটা উপরে নিয়ে যান তাঁরা। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মনে হচ্ছিল, আপনারা শুধু জেতার সিদ্ধান্তই নেননি, বরং যতক্ষণ প্রতিযোগিতা চলবে, ততক্ষণ পদক জয়ের ধারায় ছেদ পড়তে দেবেন না।”
এক্স হ্যান্ডেলে ১৪ থেকে ১১৪ পদকের যাত্রা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। কী কী লিখেছেন?
একদিকে এই সংখ্যাটা ভারতের এশিয়ান প্যারা গেমসে অগ্রগতির একটি পরিসংখ্যান। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই অভাবনীয় সাফল্য আরও একটি বিষয় তুলে ধরছে। তা হল, আমাদের অ্যাথলিটদের বিপুল প্রতিভা ও সম্ভাবনা।
এবারের প্রতিযোগিতায় ভারত জিতেছে ৩০টি সোনা। তৈরি হয়েছে ৫টি বিশ্বরেকর্ড এবং ৯টি এশীয় রেকর্ড। চারটি ইভেন্টে ভারতীয় অ্যাথলিটরা পডিয়ামের তিনটি স্থানই দখল করেছেন। আমার কাছে দু’টি পরিসংখ্যান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথমত, ৬১ জন অ্যাথলিট প্রথমবার এশিয়ান প্যারা গেমসে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩৬ জনই পদক নিয়ে দেশে ফিরেছেন।
দ্বিতীয়ত, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৫৬ জন মহিলা অ্যাথলিটের মধ্যে ৩৪ জন পদক জিতেছেন।
আমাদের অ্যাথলিটরা প্রমাণ করেছেন, মনের জোর ও দৃঢ় সংকল্প থাকলে কোনও স্বপ্নই খুব বড় নয়, কোনও বাধাই অতিক্রম করা অসম্ভব নয়।
একসময় খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চাওয়া তরুণ-তরুণীদের ভালো চোখে দেখত না সমাজ। সেই দিন এখন অতীত। এখন আপনার মধ্যে প্রতিভা থাকলে, ভারত আপনার পাশে থাকবে, আপনাকে উৎসাহ দেবে।
এগিয়ে আসুন, খেলুন এবং সাফল্যের শিখরে পৌঁছন
ভারতের এই সাফল্যের পিছনে দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৪ সালের আগের পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে তিনি জানান, তখন পর্যাপ্ত পরিকাঠামো, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং স্বচ্ছতার অভাব ছিল। সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মোদী বলেন, “মানুষ বলতেন, এই ব্যবস্থার কখনও পরিবর্তন হবে না। তাঁরা সেটাকেই ভবিতব্য বলে মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা ঠিক করেছিলাম, দেশের যুবসমাজের স্বপ্নকে ভেঙে যেতে দেব না। তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার পথ আটকাতে দেব না। গোটা ব্যবস্থারই পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।”