
নয়াদিল্লি: গুজরাটের বনসকাঁথা জেলার মহিলাদের সঙ্গে কথোপকথনের একটি ভিডিয়ো শুক্রবার সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কৃষি, দুগ্ধশিল্প এবং পশুপালন কীভাবে মহিলাদের ক্ষমতায়নের পথ প্রশস্ত করেছে, সেই ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তিনি। ‘সেলিব্রেটিং নারীশক্তি’ শিরোনামের ওই ভিডিয়োতে মহিলাদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। এক্স হ্যান্ডলে ভিডিয়োটি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “বনসকাঁথায় এই কথোপকথন আপনাদের মন ভালো করে দেবে!” মোদী আরও লেখেন, “কৃষি, দুগ্ধশিল্প এবং পশুপালন কীভাবে নারী ক্ষমতায়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে, তা সত্যিই অসাধারণ।”
প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন এক মহিলা-
কথোপকথনের সময় এক মহিলা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। ভারতীয় সংস্কৃতিতে উপহার পাওয়ার পর পাল্টা উপহার দেওয়ার যে রীতি রয়েছে, তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ওই মহিলা বলেন, “আমার বলার মতো খুব বেশি কিছু নেই। তবে আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতিতে কেউ উপহার দিলে তাঁকে পাল্টা উপহার দেওয়ার একটি রীতি রয়েছে। আর আপনি আমাদের অসংখ্য উপহার দিয়েছেন। আপনার জন্য আমরা যা-ই করি না কেন, তা কখনও যথেষ্ট হবে না।”
তিনি আরও বলেন, মহিলারা প্রধানমন্ত্রীর জন্য কোনও দামি উপহার নিয়ে আসেননি। তবে তাঁরা নিজেদের সমর্থনের আশ্বাস দিতে চান। তাঁর কথায়, “আমরা কোনও দামি উপহার নিয়ে আসিনি। তবে আপনাকে একটি আশ্বাস দিতে চাই—দেশের যখনই, যেখানে প্রয়োজন হবে, রাতবিরেতেও বনসের মহিলাদের ডাকবেন। আমরা দিল্লি পর্যন্ত এসে আপনার পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াব।”
মেয়েদের শিক্ষার উপর জোর প্রধানমন্ত্রীর-
কথোপকথনের সময় মহিলাদের নিজেদের মেয়েদের পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। মেয়েদের শিক্ষিত করে তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মোদী বলেন, “আপনারা প্রত্যেকে জীবনে অনেক উন্নতি করুন এবং বনসকাঁথাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান। মেয়েদের শিক্ষার দিকে বিশেষ নজর দিন। মেয়েরা শিক্ষিত হয়ে এগিয়ে গেলে সবকিছু বদলে যাবে। তাদের পড়াশোনার জন্য কোনও চেষ্টাই বাকি রাখবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “মেয়েদের কখনও বলবেন না, ‘এই কাজ করো, ওই কাজ করো। তোমার পড়াশোনার প্রয়োজন নেই।’ এমনটাও বলবেন না যে, ‘আমিও তো পড়াশোনা করিনি, তবুও ১২০০ লিটার দুধ বিক্রি করি। তোমার পড়াশোনা করে কী হবে? আমরা তো ২ কোটি টাকা আয় করি। তুমি আর কত আয় করতে চাও?’”
উদ্বোধন দুগ্ধশিল্পের গবেষণা কেন্দ্রের-
শুক্রবার বনসকাঁথার ভিলডিতে ভারত বোভাইন ব্রিডিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের উদ্বোধনও করেন প্রধানমন্ত্রী। দু’দিনের গুজরাট সফরে কেন্দ্রটি ঘুরে দেখার পাশাপাশি আধিকারিকদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। পিটিআই সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। একটি সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ১২৭ একর জমিতে ৩২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রটি তৈরি করেছে বনস ডেয়ারি। ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড এই প্রকল্পে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গোকুল মিশনের অধীনে প্রকল্পটিকে সহায়তা করা হয়েছে।
এই কেন্দ্রে ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) এবং এমব্রায়ো ট্রান্সফার প্রযুক্তির সাহায্যে দেশীয় গবাদি পশুর উন্নত প্রজনন এবং দুধ উৎপাদন বাড়ানোর কাজ হবে। প্রতি বছর ২৫ হাজার উন্নতমানের ভ্রূণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রটিতে কাঁকরেজ, গির, সাহিওয়াল ও থরপারকর প্রজাতির গরুর পাশাপাশি মেহসানি, বান্নি, জাফরাবাদি এবং মুররাহ প্রজাতির মহিষের উন্নত প্রজননের উপর জোর দেওয়া হবে।