
নয়াদিল্লি: পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ১১০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘ভজন ক্লাবিং’ অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দীনদয়াল উপাধ্যায় পার্কে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চলতি বছরের শুরুতে মোদীর বক্তব্যে উঠে আসা একটি নতুন সাংস্কৃতিক ধারাই ফের সামনে এল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তাঁর ‘অন্ত্যোদয়’ দর্শনের কথাও উল্লেখ করেন। সমাজের একেবারে প্রান্তিক মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াই এই দর্শনের মূল কথা। এদিন সকালেও জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দীনদয়াল উপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী এবং জনজীবনে তাঁর অবদানের অন্যতম দিক হিসেবে ‘অন্ত্যোদয়’-এর কথা তুলে ধরেন।
কী এই ‘ভজন ক্লাবিং’?
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ভক্তিমূলক জমায়েতের একটি আধুনিক রূপ হল ‘ভজন ক্লাবিং’। এর মূল ধারণাটি সহজ। সাধারণ ভজন, কীর্তন এবং ভক্তিমূলক গানকে অনেকটা কনসার্টের ধাঁচে পরিবেশন করা হয়। থাকে মঞ্চের আলো, অ্যামপ্লিফায়েড মিউজিক এবং আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার। কোথাও কোথাও আধুনিক বিট ও ইলেকট্রনিক মিউজিকও যোগ করা হয়। তবে মূল বিষয় থাকে ভক্তিমূলক সংগীতই।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ‘মন কি বাত’-এর ১৩০তম পর্বে এই নতুন ধারার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি জানিয়েছিলেন, তরুণদের একটি বড় অংশ এমন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন, যা দেখতে অনেকটা মিউজিক কনসার্টের মতো। তবে সেখানে মূল আকর্ষণ ভজন। সেই সময় মোদী বলেছিলেন, “আমাদের জেন-জি ভজন ক্লাবিংয়ের দিকে ঝুঁকছে… ভজনের পবিত্রতা বজায় রেখে আধ্যাত্মিকতা ও আধুনিকতার সুন্দর মেলবন্ধন ঘটছে।”
ভজন ক্লাবিংয়ে মেতে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
কেন নজর কাড়ছে ‘ভজন ক্লাবিং’?
দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে ইতিমধ্যেই তরুণদের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই ধরনের ‘ভজন ক্লাবিং’ দেখা গিয়েছে। দিল্লির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসূচিতে মালব্য নগরেও এমন অনুষ্ঠানের উল্লেখ ছিল। অর্থাৎ শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিয়োতেই নয়, এখন এই ধরনের অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবে আয়োজিত হচ্ছে।
#WATCH | Prime Minister Narendra Modi attends ‘Bhajan Clubbing’ at Deen Dayal Upadhyaya Park in Delhi, on the occasion of Bharatiya Jana Sangh leader Pandit Deendayal Upadhyaya’s birth anniversary.
(Source: DD News) pic.twitter.com/cSMCyrfIKg
— ANI (@ANI) September 25, 2026
তরুণ প্রজন্মের কাছে এই আয়োজন অনেকটা মিউজিক গিগের পরিবেশ তৈরি করে। সেই পরিবেশেই পরিবেশন করা হয় ভক্তিমূলক গান ও ভজন। এই দুইয়ের সংমিশ্রণই ‘ভজন ক্লাবিং’ শব্দটিকে আলাদা করে নজরে এনেছে। এখানে মূলত ভজনের ধরন বদলানোর চেয়ে, তরুণদের কাছে কীভাবে এবং কোন পরিবেশে ভজন পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, সেই বিষয়টিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।