
পুদুচেরী: চার রাজ্য়ের বিধানসভা নির্বাচনে চার রকমের ফল। একদিকে যেমন বাংলায় এই প্রথম গেরুয়া ঝড় উঠল, তেমনই অসমে ফের একবার ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়তে চলেছে। তামিলনাড়ুতে প্রধান শক্তি হিসাবে উঠে আসছে টিভিকে। কেরলমে আবার ক্ষমতায় ফিরছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। সেখানেই পুদুচেরী বিধানসভা নির্বাচনে (Puducherry Assembly Election Results 2026) ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (NDA) ফের ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে।
এই জোটে প্রধান মুখ অল ইন্ডিয়া এনআর কংগ্রেস। রয়েছে এআইএডিএমকে (AIADMK), ভারতীয় জনতা পার্টি,
লাচ্চিয়া জননায়গা কাচ্চি। এবারের নির্বাচনে ৮৯.৮৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা পুদুচেরীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মূল লড়াই হয়েছে এনডিএ (NDA) বনাম কংগ্রেস-ডিএমকে (DMK) জোটের মধ্যে। অন্যদিকে, অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়-র দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (TVK) ৩০টি আসনেই লড়াই করেছিল।
সন্ধ্যা ৬টা ১৫ পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, এআইএনআরসি (AINRC) জিতেছে ৯টি আসন, এগিয়ে আছে ২টিতে। বিজেপি (BJP) জিতেছে ২টি আসন, এগিয়ে আরও ২টিতে। এআইএডিএমকে (AIADMK) ও এলজেকে (LJK) পেয়েছে ১টি করে আসন।
বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গস্বামী থট্টাঞ্চাভাডি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়তে চলেছেন। তিনি পঞ্চমবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে। ৭৫ বছর বয়সী রঙ্গস্বামী বাণিজ্য ও আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। কে কামারাজ-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি আইন পেশা ছেড়ে রাজনীতিতে আসেন।
তাঁর সাধারণ জীবনযাপন এবং মানুষের কাছে সহজে পৌঁছনোর জন্যই তিনি “জুনিয়র কামারাজ” নামে পরিচিত।
কোনও দামি গাড়ি নয়, মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও প্রায়শই তাঁর ইয়ামাহা আরএক্স ১০০ বাইকেই ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। ২০১৬ এবং ২০২৬ সালের ভোটেও এই বাইকেই ভোট দিতে যান তিনি।
রঙ্গস্বামীর জনপ্রিয়তার মূল কারণ তাঁর সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, যেমন প্রবীণদের জন্য ২,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা পেনশন, পরিবারের মহিলাদের জন্য ২,৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা। এছাড়া পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (PDS) পুনরুজ্জীবিত করেছেন তিনি। গত ৫ বছরে প্রায় ৫,০০০ চাকরি সৃষ্টি করেছেন তাঁর সরকার। তিনি জানিয়েছেন, পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলে আরও ১,০০০ চাকরি তৈরি করা হবে।
রঙ্গস্বামী প্রথম ১৯৯০ সালে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জেতেন এবং টানা চারবার বিধায়ক হন। ২০০১ সালে তিনি প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ২০০৬ সালে ফের নির্বাচিত হন। তবে ২০০৮ সালে দলের সঙ্গে মতভেদের কারণে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়। এরপর ২০১১ সালে তিনি এনআর কংগ্রেস গঠন করেন এবং আবার ক্ষমতায় ফেরেন।
২০১৬ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়েন। ২০২১ সালে এনডিএ (NDA)-র সঙ্গে জোট বেঁধে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হন। এবারও তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে। অর্থাৎ পঞ্চমবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, পুদুচেরির রাজনীতি বরাবরই অস্থির। একাধিকবার মাঝপথে সরকার ভেঙে যাওয়া, জোটে ভাঙন, মুখ্যমন্ত্রী ও লেফটেন্যান্ট গভর্নরের মধ্যে সংঘাত উঠে এসেছে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ায় প্রশাসনিক ক্ষমতার বড় অংশই লেফটেন্যান্ট গভর্নরের হাতে থাকে। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট এই কাঠামোকে আরও স্পষ্ট করে দেয়। এন রঙ্গস্বামী-র পঞ্চমবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।