
পুনে: বাড়িতে যখন ফোন করতেন, কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলতেন, সবই করতেন UK-এর ফোন নম্বর থেকেই। তাই পরিবারের সদস্যদের এক ফোঁটাও কোনও সন্দেহ হয়নি কোনওদিন। কারণ বাড়ির মেয়ে তো এমবিএ পড়তে লন্ডনে গিয়েছেন।মেয়ে ব্রিটেনে পড়াশোনা করছেন, সেটাই জানতেন বাবা-মা। কিন্তু পুনের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল সেই মেয়ের পচাগলা দেহ। ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের ৩৪ বছর বয়সি এক তরুণীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য। গত ছয় দিন ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর পুনের কাছে গাহুঞ্জের একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে তাঁর পচাগলা দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ওই তরুণীর নাম মুগ্ধা দেশমুখ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত তরুণীর বাবা ছত্রপতি সম্ভাজিনগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের এক অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে স্থানীয় ওসমানপুরা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। ওই তরুণী উচ্চশিক্ষার জন্য ২০২৫ সালের জুলাই মাসে লন্ডনে গিয়েছিলেন এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। গত ২৩ অক্টোবর মায়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়, যেখানে তিনি একটি ইন্টারভিউয়ের কথা বলে হঠাৎ ফোন কেটে দেন। এরপর ২৪ অক্টোবরের পর থেকে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের পক্ষে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পরিবারের অনুরোধে লন্ডনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায় যে ওই তরুণী চলতি বছরের অগাস্ট মাসেই ব্রিটেন ছেড়ে চলে এসেছেন। এরপর পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয় এবং তরুণীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও অনলাইন লেনদেনের (যেমন ফুড ডেলিভারি) রেকর্ড খতিয়ে দেখে জানতে পারে যে তিনি পরিবারের অগোচরেই ভারতে ফিরে এসেছেন। প্রযুক্তিগত তথ্যের সাহায্যে পুলিশ পুনের গাহুঞ্জ এলাকার একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে তাঁর অবস্থান ট্র্যাক করে। বুধবার রাতে পুলিশ ওই ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে।
শিরগাঁও থানার পুলিশ এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পিম্পরি চিঞ্চওয়াদের সহকারী কমিশনার অফ পুলিশ মনীশ কল্যাণকর জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।