
পুনে: ৬ বছরের সন্তানকে নিয়ে ১৮ তলা থেকে ঝাঁপ দিলেন গৃহবধূ। স্বামীর জন্য ছেড়ে গেলেন এক চিঠি। আর সেই চিঠি জানিয়ে গেলেন এক অবিশ্বাস্য ইচ্ছার কথা! আবেগঘন প্রত্যেকটা মুহূর্ত উল্লেখ করলেন চিঠিতে। পুনের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের এক মর্মান্তিক ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে দুঁদে কর্তাদেরকেও। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম একতা বাঙ্গার এবং তাঁর ছেলের নাম মাধব। তাঁরা পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের ‘সিগনেচার পার্ক’ নামে একটি সোসাইটির ১৮ তলায় থাকতেন।
একতার স্বামী মনোজ বাঙ্গার পুনের একটি আইটি কোম্পানিতে ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত। গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ একতা তাঁর ছেলেকে নিয়ে বহুতলের ১৮ তলায় যান এবং সেখান থেকে ঝাঁপ দেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ২ জনের।
তদন্তে নেমে পুলিশ মৃতার ফ্ল্যাট থেকে ৭ থেকে ৮ পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। সেই চিঠির প্রত্যেকটা লাইনই অত্যন্ত আবেগঘন। চিঠিতে একতা তাঁর স্বামীর প্রতি গভীর অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেছেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর স্বামীকে পুনরায় বিয়ে করে জীবন নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, তাঁর অবর্তমানে শিশুটি বারবার মায়ের খোঁজ করবে এবং মায়ের অনুপস্থিতি সে কিছুতেই মেনে নিতে পারবে না। পাশাপাশি, তাঁর আশঙ্কা ছিল যে সঙ্গে সন্তান থাকলে স্বামীর পুনর্বিবাহের ক্ষেত্রেও নানা সমস্যা হতে পারে। তাই ছেলেকে নিয়েই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত যে নিয়েছেন, সেটাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। ছেলের ভবিষ্যৎ এবং মা ছাড়া সে কীভাবে মানুষ হবে, তা নিয়ে তীব্র মানসিক দ্বন্দ্ব ও উদ্বেগের কথা তিনি লিখে গেছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একতা গত বেশ কয়েক বছর ধরে স্পাইনাল বা মেরুদণ্ড সংক্রান্ত একটি জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করালেও তাঁর সঠিক রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এই দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এবং এর জেরে তৈরি হওয়া মানসিক অবসাদের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ওয়াকাদ থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটটি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঘটনার পেছনের অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।