
নয়াদিল্লি: রেলস্টেশনে রেলমন্ত্রী। একেবারে পৌঁছে গেলেন সাধারণ যাত্রীদের কাছে। শনিবার এই ছবিই ধরা পড়ল দিল্লি আনন্দ বিহার রেল স্টেশনে। স্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বললেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। যাত্রাপথে তাঁদের অভিজ্ঞতা কেমন, রেলের পরিষেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তাঁদের কী মতামত, তা জানতে চান তিনি। পরিদর্শনের সময় যুবক-যুবতী, মহিলা, শিশু-সহ বিভিন্ন বয়সের যাত্রীদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কথা বলেন রেলমন্ত্রী। ভারতীয় রেলের তরফে দেওয়া বিভিন্ন পরিষেবা ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে তাঁদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া নেন।
কথোপকথনের সময় অধিকাংশ যাত্রীই রেলের পরিষেবার ধারাবাহিক উন্নতি ও আধুনিকীকরণের জন্য রেলমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। অন্যদিকে, তরুণদের পিঠ চাপড়ে উৎসাহ দেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। শিশুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁদের প্রতি স্নেহও প্রকাশ করেন তিনি। রেলের বর্তমান পরিষেবা ও পরিকাঠামো সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা জানতে সরাসরি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলাই ছিল এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য। এদিন কার্যত একজন সাধারণ নাগরিকের মতোই যাত্রীদের সঙ্গে মিশে যান রেলমন্ত্রী।
শুধু তাই নয়, স্টেশনের একটি চায়ের দোকানে চা-ও খান তিনি। ডিজিটাল ইন্ডিয়াকে উৎসাহ দিতে UPI-এর মাধ্যমে চায়ের দাম মেটান। রেলমন্ত্রীর এই সহজ-সরল ও আন্তরিক আচরণ স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
রেল ভবনে ‘ওয়ার রুম’-এর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন-
অন্যদিকে, নয়াদিল্লির রেল ভবনে ‘ওয়ার রুম’-এর প্রস্তুতি ও পরিচালন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। উৎসবের মরশুমে রেলের পরিচালন দক্ষতা, যাত্রী নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ আরও উন্নত করতে AI-নির্ভর প্রযুক্তি, লাইভ CCTV ফুটেজ এবং রিয়েল-টাইম ডেটার ব্যবহারের উপর জোর দেন তিনি।
পর্যালোচনা বৈঠকে একটি কেন্দ্রীয় নজরদারি ও সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে ‘ওয়ার রুম’-এর ভূমিকা তুলে ধরা হয়। রেল স্টেশনগুলি থেকে পাওয়া লাইভ ফুটেজ, AI-নির্ভর প্রযুক্তি এবং রিয়েল-টাইম পরিচালন সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয় এই কেন্দ্র থেকে। এর ফলে পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত ধারণা পাওয়া, সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং রেলের পরিষেবা আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
চলছে ১৮ হাজারেরও বেশি স্পেশাল ট্রেন-
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, উৎসবের মরশুমে যাত্রীদের ভিড় সামাল দিতে ভারতীয় রেল একাধিক পদক্ষেপ করেছে। বিশেষ ট্রেন চালানোর পাশাপাশি প্রায় ২০টি স্টেশনে যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য বিশেষ জায়গা বা ‘প্যাসেঞ্জার হোল্ডিং এরিয়া’ তৈরি করা হয়েছে। তিনি জানান, গত বছর যেখানে প্রায় ১২ হাজার বিশেষ ট্রেন চালানো হয়েছিল, সেখানে চলতি বছর উৎসবের মরশুমে ১৮ হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত বিশেষ ট্রেন চালানো হচ্ছে। যাত্রীদের যাতায়াত আরও মসৃণ করতে এই ব্যবস্থার পাশাপাশি পৃথক টিকিট কাউন্টার এবং একাধিক স্ক্যানিংয়ের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
এছাড়া নজরদারি আরও জোরদার করতে প্রায় ৭০০টি AI-সক্ষম ক্যামেরা বসানো হয়েছে। রেলমন্ত্রী আরও জানান, উৎসবের মরশুমের ভিড় সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি প্রায় ছয় মাস আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে ছটপুজোর সময় বিপুল সংখ্যক যাত্রীর সমাগমের কথা মাথায় রেখে বিশেষ পরিকল্পনা করা হয়েছে।
AI-নির্ভর নজরদারি ও রিয়েল-টাইম পরিচালন ব্যবস্থা-
রেলের নজরদারি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে AI-নির্ভর প্রযুক্তি, স্টেশনগুলির লাইভ CCTV ফুটেজ এবং রিয়েল-টাইম পরিচালন সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে ‘ওয়ার রুম’-এ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেনের চলাচল এবং বিলম্বের বিষয়টিও তাৎক্ষণিকভাবে নজরে রাখা সম্ভব। কোথাও কোনও সমস্যা বা পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটলে তার কারণ চিহ্নিত করা এবং বিশ্লেষণ করতে পারেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বাড়ানো এবং রেল পরিষেবা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াও সহজ হয়।