
অযোধ্যা: বিধি মেনে, নির্দিষ্ট তিথি অনুসারে সোমবার দুপুর ১২টা নাগাদ অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেইসময় মন্দির চত্বরের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন রামকৃষ্ণ শ্রীবাস্তব নামে এক রাম-ভক্ত। তবে হাজার-হাজার অতিথির যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য রাম মন্দির চত্বরেই সবরকম আয়োজন করেছিল যোগী আদিত্যনাথের সরকার। তাই মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানের মাঝেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বায়ুসেনার ব়্যাপিড রেসপন্স টিম ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা পেয়ে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। যা রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠার সময় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
রাম মন্দিরের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, রাম মন্দির চত্বরেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন ৬৫ বছর বয়সি রামকৃষ্ণ শ্রীবাস্তব। সঙ্গে সঙ্গেই উইং কম্যান্ডার মণীশ গুপ্তার নেতৃত্বাধীন BHISHM Cube দল রামকৃষ্ণ শ্রীবাস্তবকে ঘটনাস্থল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মোবাইল হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করে। হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর প্রথম এক ঘণ্টা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ হিসাবে ধরা হয় চিকিৎসা বিজ্ঞানে। তাই এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে শ্রীবাস্তবকে আপৎকালীন চিকিৎসা দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়। অচৈতন্য হওয়ার মুহূর্তে শ্রীবাস্তবের রক্তচাপ ছিল ২১০/১৭০ mm Hg, যা স্বাভাবিকভাবে বিপজ্জনক। ব়্যাপিড রেসপন্স টিম প্রথমে মন্দির চত্বরেই তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল করেন। তারপর বিশেষ পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত, সুস্থ রয়েছেন শ্রীবাস্তব।
প্রসঙ্গত, রাম মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে এদিন অযোধ্যায় কয়েক হাজার অতিথির আগমন ঘটেছে। তাই অতিথিদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছিল যোগী আদিত্যনাথের সরকার। এমার্জেন্সি পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তড়িঘড়ি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে রবিবারই আরোগ্য মৈত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অধীনে দুটি Cube-BHISHM ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল মোতায়েন করা হয় অযোধ্যায়। এই ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালগুলি জরুরি পরিস্থিতিতে দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া এবং চিকিৎসা দেওয়ার সমস্ত বন্দোবস্ত রাখা হয়।