
নয়া দিল্লি: তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূল। বিধানসভায় ইতিমধ্যেই ভেঙে দু’টুকরো হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে ৬০ বিধায়কের নতুন তৃণমূল ব্লক। এবার কী সংসদীয় যে দল রয়েছে সেখানেও কী ভাঙন? রক্তক্ষরণ? প্রশ্ন ঘুরলেও উত্তরটা ক্রমশ যেন ‘হ্যাঁ’-এরই রূপ নিতে চলেছে বলে মত রাজনীতির কারবারিদের। সূত্রের খবর, ভাঙন জল্পনার মধ্যেই দিল্লিতে ভিড় বাড়ছে তৃণমূল সাংসদদের। কাকলির নেতৃত্বেই একজোট হচ্ছেন বিদ্রোহী, বেসুরো সাংসদরা। তবে তালিকায় যে সব সাংসদই রয়েছেন এমনটা নয়। তবে অনেকেই পা বাড়িয়েছেন দিল্লির দিকে, খবর এমনটাই। তাহলে সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লির সফরের দিনেই কি তৃণমূলের সংসদীয় দলে বড় ভাঙন?
একাধিক সাংসদ শুধু দিল্লিতে নেই, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে তাঁদের দূরত্ব বাড়িয়েছেন। এর মধ্যে একেবারে অগ্রণী ভূমিকায় রয়েছেন সেলিব্রেটি সাংসদরা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেছেন জুন মালিয়া, দীপক অধিকারী ওরফে, ইউসুফ পাঠান, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের, শত্রুঘ্ন সিনহার মতো সাংসদরা। এর মধ্যে যেমন জুন মালিকা দলের কোনও কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন না কিন্তু একটি ওটিটি-র শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
সূত্র মারফত এও জানা যাচ্ছে, স্পিকারকে চিঠি দিয়ে অভিষেককে অপসারণের ব্লু প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে। আপাতত ১২ সাংসদ একজোট হয়েছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। তালিকায় শোনা যাচ্ছে পার্থ ভৌমিক, জগদীশ বসুনিয়ার নামও। সূত্রের খবর, এদের সাফ কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে লোকসভার দলনেতা মানতে তাঁরা নারাজ। তাঁদের দ্বিতীয় লক্ষ্য, লোকসভার অন্দরে ঋতব্রক কায়দাতেই তৃণমূলেরই আর একটা নতুন ব্লক তৈরি। এখন আবার বিজেপির তরফ থেকেও বার্তা সম্পূর্ণ স্পষ্ট। তাঁদের সাফ কথা, তৃণমূলের কোনও সাংসদকেই তাঁরা এই মুহূর্তে দলে নেবে না। স্বাভাবিকভাবে এরা থাকবে একটা আলাদা ব্লক হবে। সে ক্ষেত্রে ফ্লোর কোর্ডিনেশনের ক্ষেত্রে লোকসভার পলিসি কী হয় সেদিকে নজর থাকছে।
কিন্তু তাঁরা যদি সত্য়ি এমনটা চেয়ে থাকনে তাহলে দলত্যাগ বিরোধী বিরোধী আইনের গা বাঁচিয়ে কীভাবে সেটা করা সম্ভব? কারণ, এ ক্ষেত্রে বিদ্রোগী বিধায়কদের এমন সংখ্যা নিশ্চিত করতে হবে যাতে তাঁরা কোনওভাবেই এই আইনের আওতায় না পড়েন। অর্থাৎ দরকার দুই তৃতীয়াংশ সাংসদের সাপোর্ট। সেটা মিলে কিনা সেটাও দেখার।
সূত্রের খবর, আপাতত দল ভাঙানোর খেলায় সবথেকে বেশি সক্রিয় পার্থ ভৌমিক ও জগদীশ বাসুনিয়া। অন্যদিকে মমতা-অভিষেকের পাশে রয়েছেন ডেরেক ও ব্রায়েন, দোলা সেন, সামিরুল ইসলামের মতো রাজ্যসভার সাংসদরা। আছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়, সৌগত রায়ের মতো সাংসদরা।
যদি সূত্রের এও খবর, মুহূর্তে মুহূর্তে বদলাচ্ছে সংখ্যাটা। অর্থাৎ দোটানায় রয়েছেন অনেকেই। শোনা যাচ্ছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায়, সায়নী ঘোষ, সাজদা আহমেদ, অরূপ চক্রবর্তী, বাপি হালদার, কালিপদ সোরেন, খলিলুর রহমানের মতো সাংসদদের নাম। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রেও সংখ্যাটা নেহাৎ কম নয়। এই আবহে এও জানা যাচ্ছে, দলের তথৈবচ অবস্থায় এক একজন সাংসদের সঙ্গে ধরে ধরে কথা বলছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাতে কতটা চিঁড়ে ভিজবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে চলে গিয়েছেন অভিষেক, রবিবার যাচ্ছেন মমতা। সোমবার রয়েছে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক।