Russian Oil: মার্কিন ‘চোখ রাঙানিকে’ ফুৎকারে উড়িয়ে দিল ভারত, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি জারি
India Continues Buying Russian Oil: মার্কিন আইন নিয়ে ভারতের অবস্থান খুব স্পষ্ট। বিদেশমন্ত্রকের মন্তব্য, এটা অপ্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত। এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়তে বাধ্য। ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব জুড়ে ট্যারিফ ওয়ার শুরু করার পর ভারতের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চেপেছিল। তারপরও গত এক বছরে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের রফতানি বেড়েছে।

নয়াদিল্লি: রুশ তেলে কিনলে গুণতে হতে পারে ১০০ শতাংশ শুল্ক। আমেরিকার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ বিলে অনুমোদন দিয়েছে। আর তার পরই ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়ে দেয়, ১৪০ কোটি মানুষের সুবিধা, ভালোমন্দই কেন্দ্রের প্রাধান্য। এর জন্য যা করার করা হবে। এরপরই ভারতে রুশ রাষ্ট্রদূত জানালেন, জানুয়ারি বাস্কেটে তেলের অর্ডার দিয়েছে ভারতের তেল সংস্থাগুলো। জানুয়ারি বাস্কেট মানে ওই মাসে রাশিয়া থেকে ভারত যে তেল কিনতে চায়, তার বরাত। অর্থাৎ ভারত, রুশ তেল কেনা বন্ধ করছে না।
গত অগস্টে ভারত রাশিয়া থেকে দিনে ২১ লক্ষ ব্যারেল তেল কিনেছে। জুন মাসে সেটা ছিল দিনে ২৬ লাখ ব্যারেল। ২০২৬ সালে ভারত মোট আমদানি করা তেলের ৩০ শতাংশ রাশিয়া থেকে কিনেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর, প্রথম ২-৩ বছরে ভারত ৪০ শতাংশের বেশি তেল রাশিয়া থেকে আমদানি করত। তখন রুশ তেলে বেশ ভালোরকম ডিসকাউন্ট দিত সেদেশের তেল সংস্থাগুলো। ভারতের তেল কোম্পানিগুলো তখন রুশ তেল কিনে পরিশোধন করে অন্য দেশে বিক্রিও করেছে। পরে রুশ তেলে ছাড় কমেছে। ভারতও নিজের মতো করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়েছে, বাড়িয়েছে।
লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং ইরান অ্যান্ড রাশিয়া টু জিরো টু সিক্স। এই বিলের মূল কথা – রাশিয়া এবং ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসার পথ বন্ধ। একান্তই ব্যবসা করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপবে। গত মাসে মার্কিন সেনেটে এই বিল পাশ হয়েছিল। ২ দিন আগে এতে অনুমোদন দেয় হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ। অর্থাৎ এটা এখন আর বিল নেই, আইনে পরিণত হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সইটাই খালি বাকি। এখন আমেরিকায় ভারতীয় পণ্য আমদানিতে ১৮ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। নতুন আইনে শুল্ক হবে ১১৮ শতাংশ।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, ইউক্রেনে রুশ হামলা বন্ধ করতেই এই কড়া ডোজ। এর থেকে ছেঁদো যুক্তি গোটা দুনিয়ায় আর দুটো হয় কি না সন্দেহ। গত তিন সপ্তাহে অন্তত তিনবার রুশ – মার্কিন কর্তারা মুখোমুখি বসেছেন। দু-বার ক্রেমলিনে। একবার অজ্ঞাত কোনও স্থানে। মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তো হঠাৎ করে মস্কোতেও পৌঁছে গিয়েছিলেন। আলাস্কায় ট্রাম্প- পুতিন মোলাকাতের কথা যদি ছেড়েও দেওয়া হয়, তা হলেও এত বৈঠকের ঘটা কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্তারা? ইউক্রেনকে বাঁচানো, রাশিয়াকে জব্দ করা – এসবই কথার কথা। আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার তেলের বাজার আরও বাড়াতে চাইছেন। ছড়াতে চাইছেন। আর দুনিয়ার মধ্যে ভারত এবং চিন তেলের বড় থেকে বড় ক্রেতা।
মার্কিন আইন নিয়ে ভারতের অবস্থান খুব স্পষ্ট। বিদেশমন্ত্রকের মন্তব্য, এটা অপ্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত। এতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়তে বাধ্য। ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব জুড়ে ট্যারিফ ওয়ার শুরু করার পর ভারতের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চেপেছিল। তারপরও গত এক বছরে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের রফতানি বেড়েছে।
কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেকদিন ধরেই তক্কে তক্কে ছিলেন। জেনেজুয়েলার তেল, আমেরিকার তেল – এসব তেল বেচতে হবে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রিপাবলিকান লিন্ডসে গ্রাহাম রুশ তেলে শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দিয়ে আইন আনার দাবি তুলেছিলেন। গ্রাহাম কিছুদিন আগে প্রয়াত হয়েছেন। সাংসদের নামে বিল এনে সেই লক্ষ্যপূরণের চেষ্টায় নামলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
