
মঙ্গলবার দুপুর দুটো থেকে আরজি কর মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। মামলা শুনছেন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রর বেঞ্চ। তদন্ত এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে, রাজ্যে চিকিৎসা পরিষেবা কেমন চলছে। এই সমস্ত প্রশ্নই এ দিনের শুনানি ফের ওঠার সম্ভাবনা।
কলকাতা পুলিশ কমিশনার নির্যাতিতার নাম প্রকাশ করেছিলেন। সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি। এ বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্ট কিছু ক্লারিফিকেশন চেয়েছেন বলে জানালেন তিনি। তবে এই বিষয়ে শুনানি হবে দীপাবলির পর।
২০২২-এর পর থেকে কোনও নির্বাচন হয়নি আরজি করে। এর ফলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মনোনীত ব্যক্তিরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের আবেদন জানালেন ইন্দিরা জয়সিং। এ বিষয়ে সুপ্রিমকোর্ট হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানালেন প্রধান বিচারপতি। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার নির্দেশ দিলেন তিনি।
অনশনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রসঙ্গ উঠল সুপ্রিম কোর্টে।
আইনজীবী ইন্দিরা জয় সিং: আটজন ডাক্তার বাদে বাকি ডাক্তাররা সকলের কাজে যোগ দিয়েছেন।
আইনজীবী ইন্দিরা জয় সিং: তিনজনের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তাঁদের স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমরাও চাই তারা অনশন প্রত্যাহার করুক।
নিরাপত্তা অডিটে জুনিয়র ডাক্তারদের যুক্ত করার দাবি জানালেন আইনজীবী করুণা নন্দী।
রাজ্যের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী: প্রতিমুহূর্তে ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে
করুণা নন্দী: ‘রাত্তিরের সাথী’ প্রকল্পে সিভিক ভলান্টিয়রের নিয়োগ করার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে।
আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী: প্রাইভেট সিকিউরিটি এজেন্সি রেগুলেশন আইন ২০০৫ অনুযায়ী নিয়োগ হচ্ছে।
CJI: পরবর্তী শুনানির দিন, কোন পদ্ধতিতে সিভিক ভলান্টিয়রদের নিয়োগ করা হয়, সিভিক ভলান্টিয়রদের নিয়োগকারী কে, কোন আইন বলে করা নিয়োগ হয়, মোট কত সিভিক ভলান্টিয়র আছে, কোথায় কোথায় তাদের নিয়োগ করা হয়েছে, কীভাবে তাঁদের ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে সেই বিষয়ে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে রাজ্য সরকারকে।
CJI: হাসপাতাল এবং স্কুলের মত সংবেদনশীল জায়গায় সিভিক ভলান্টিয়র নিয়োগ করা যাবে না।
কলকাতা হাইকোর্টের লিফটে মহিলা আইনজীবীর শ্লীলতাহানির প্রসঙ্গ উঠল সুপ্রিম কোর্টে। এক আইনজীবী এই প্রসঙ্গ তোলেন। পরবর্তী ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে পুলিশ ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ফলে লিফটেও সিসিটিভি থাকা উচিত বলে দাবি করেন।
ইন্টিগ্রেটেড রেফারেল সিস্টেম গঠনের দাবি জানালেন ইন্দিরা জয় সিং। যে হাসপাতালে বেড আছে, সংশ্লিষ্ট রোগের জন্য যে চিকিৎসক প্রয়োজন সেই চিকিৎসক আছে সেই সংক্রান্ত তথ্য সম্মলিত সিস্টেম গঠনের দাবি জানালেন তিনি। হাসপাতালে বেড না পাওয়ার ফলে চিকিৎসকদের উপরে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। কারণ তারা নাজেহাল হচ্ছেন।
ইন্টিগ্রেটেড হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ১ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। স্বাস্থ্য পরিষেবা, চিকিৎসক এবং ওষুধ আছে কি না তা জানতে হবে: CJI
অনলাইন রিয়েলটাইম বেড ভ্যাকেশন মনিটর সিস্টেম চালু করতে হবে: CJI
অন্যান্য মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের কাজ ২৫ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে হবে। আরজি করের পরিকাঠামোগত পুনর্গঠনের কাজ ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে। জেলা এবং রাজ্যস্তরে হাসপাতালগুলির সিকিউরিটি অডিট-এর কাজ শেষ করতে হবে। নির্দেশ প্রধান বিচারপতির।
রাকেশ ত্রিবেদী রাজ্য সরকারের আইনজীবী: অন্য সব হাসপাতালের কাজ হয়ে গিয়েছে। আরজি করের পরিকাঠামোর কাজ ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ শেষ হয়ে গিয়েছে। সিবিআই-এর থেকে ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরই কাজ শুরু হয়েছে। ৩১ অক্টোবর এর মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে। বিভিন্ন লেভেলের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অ্যালার্ম লাগানো হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির প্রশ্নের উত্তরে জানালেন, “বায়োমেট্রিক অ্যাক্সেসের জন্য যাবতীয় কাজ গিয়েছে। আর্থিক বরাদ্দ সব ক্ষেত্রে করা হয়ে গিয়েছে।
রাকেশ দ্বিবেদির বক্তব্যের বিরোধিতা করেন জুনিয়র চিকিৎসকদের আইনজীবী করুণা নন্দী। বললেন, “ডাক্তাররা সেখানে কাজ করছেন। তারা জানিয়েছেন, তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি।”
প্রধান বিচারপতি: কী ধরনের কাজ হয়েছে সেই ফটোগ্রাফ তারা দিয়েছেন
আর্থিক বরাদ্দ এবং কাজের বিষয় বিস্তারিত রিপোর্ট দিলেন স্বাস্থ্য দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি।
এনটিএফ এর প্রথম বৈঠকে চারটি সাব গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া এবং এ বিষয়ে রিপোর্ট তৈরি করার জন্য। ২২ আগস্টের নির্দেশের ভিত্তিতে একটি ওয়েব লিংক তৈরি করা হয়েছে মতামত নেওয়ার জন্য। ১৭০০ ইনপুট এসেছে। ৭৮৮০ হাসপাতাল তাদের মতামত জানিয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে খুব একটা ইতিবাচক অগ্রগতি NTF করতে পারেনি। ৯ সেপ্টেম্বর এর পরে কোনও বৈঠক হয়নি।
নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে NTF কে কাজ শেষ করতে হবে। সব গ্রুপ গুলিকে নিয়মিত বৈঠক করতে হবে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে এনটিএফ-কে। নির্দেশ প্রধান বিচারপতির।
সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা বলেন, “নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন সিবিআই আধিকারিকরা। নোডাল অফিসার নিয়োগ হয়েছে।”
প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন টাস্ক ফোর্সের ভূমিকা নিয়ে। তাঁর প্রশ্ন, “টাস্ক ফোর্সের ভূমিকা কী?” সলিসিটর জেনারেল জানান, এ ব্যাপারে হলফনামা জমা পড়েছে। সেটি পড়ার পর CJI-এর প্রশ্ন, “৯ সেপ্টেম্বর শেষবার টাস্ক ফোর্স গঠিত হয়েছিল। তারপর আর বৈঠক করেনি?” সলিসিটর জেনারেল জানান যে, আর কোনও বৈঠক হয়নি। পাল্টা প্রধান বিচারপতি জানতে চান আর বৈঠক কেন হল না?
ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ধারায় চার্জশিট জমা দিল সিবিআই। ধর্ষণ-খুন, আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে বলে সিবিআই জানায়। প্রধান বিচারপতি বলেন, ধর্ষণ খুনের ঘটনায় অন্যান্যদের ভূমিকাও তদন্ত সাপেক্ষ।
শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি জানতে চান অগ্রগতি কেমন? এরপর তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আদালতে রিপোর্ট জমা দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।