Scindia dynasty: মন্দিরে প্রবেশ থেকে শিক্ষা-স্বাধীনতার আগেই দলিতদের সমান অধিকার দিয়েছিল সিন্ধিয়া রাজপরিবার

Gwalior’s Scindia dynasty: সিন্ধিয়া রিসার্চ সেন্টারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের ৪ মে গোয়ালিয়রের তৎকালীন মহারাজা জীবাজিরাও মাধবরাও সিন্ধিয়া একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা জারি করেন। সেই ঘোষণায় বলা হয়েছিল, তৎকালীন সময়ে বা সমাজে যাঁদের অস্পৃশ্য বা হরিজন বলা হত, তাঁরাও অন্য নাগরিকদের মতো সমান মৌলিক অধিকারের দাবিদার।

Scindia dynasty: মন্দিরে প্রবেশ থেকে শিক্ষা-স্বাধীনতার আগেই দলিতদের সমান অধিকার দিয়েছিল সিন্ধিয়া রাজপরিবার
সিন্ধিয়া রাজপরিবারের ইতিহাসের অজানা কাহিনি।Image Credit source: TV9 বাংলা

|

Oct 30, 2026 | 11:13 AM

গোয়ালিয়র: ভারত স্বাধীন হওয়ার আগেই দেশের কয়েকটি দেশীয় রাজ্যে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হয়েছিল। সেই তালিকায় উল্লেখযোগ্য নাম গোয়ালিয়রের সিন্ধিয়া রাজপরিবার। দলিতদের সামাজিক বৈষম্য থেকে মুক্তি দেওয়া, মন্দিরে প্রবেশের অধিকার, স্কুলে পড়াশোনা এবং সরকারি জলাশয় ব্যবহারের সুযোগ—এমন একাধিক ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিয়েছিল এই রাজপরিবার। এমনকী দলিতদের অধিকার খর্ব করলে, তার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

সিন্ধিয়া রিসার্চ সেন্টারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের ৪ মে গোয়ালিয়রের তৎকালীন মহারাজা জীবাজিরাও মাধবরাও সিন্ধিয়া একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা জারি করেন। সেই ঘোষণায় বলা হয়েছিল, তৎকালীন সময়ে বা সমাজে যাঁদের অস্পৃশ্য বা হরিজন বলা হত, তাঁরাও অন্য নাগরিকদের মতো সমান মৌলিক অধিকারের দাবিদার।

মন্দিরে প্রবেশ থেকে ঘোড়ায় চড়া, সব ক্ষেত্রেই সমান অধিকার-

সেই সময় দেশের বহু জায়গায় দলিতদের মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হত না। এমনকী, সরকারি কুয়ো থেকে জল নেওয়া, স্কুলে পড়াশোনা করা কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানে ঘোড়া বা পালকিতে চড়ার অধিকারও ছিল না তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে ১৯৪৫ সালের সিন্ধিয়া রাজ পরিবার বড় ঘোষণা করে। দলিতদের পোশাক ও গয়না পরা, নিজেদের পছন্দমতো যানবাহন ব্যবহার করা এবং বিয়ের সামাজিক রীতিনীতি পালনের স্বাধীনতা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি কুয়ো, খাল, নদীর ঘাট এবং সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুবিধা ব্যবহারের অধিকারও দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের মালিকানাধীন বা পরিচালিত মন্দিরে প্রবেশ করে অন্য হিন্দুদের মতো পুজো করার অধিকারও পান তাঁরা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কেউ যদি এই অধিকার প্রয়োগে বাধা দিত, তাহলে রাজ্যের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।

আদিবাসী শিশুদের পড়াশোনার জন্য উদ্যোগ-

শুধু দলিতদের উন্নয়ন নয়, আদিবাসী সমাজের শিক্ষার প্রসারেও উদ্যোগ নিয়েছিল সিন্ধিয়া রাজপরিবার। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩৮ সালের মধ্যে গোয়ালিয়র রাজ্যে ভিল ও ভিলালা সম্প্রদায়ের শিশুদের জন্য ১১টি স্কুল এবং তিনটি বিনামূল্যের হস্টেল চালু করা হয়েছিল। শেওপুর এলাকায় সাহারিয়া সম্প্রদায়ের শিশুদের জন্যও স্কুল ও তিনটি বিনামূল্যের হস্টেলের ব্যবস্থা ছিল।

শুধু পড়াশোনা নয়, আদিবাসী শিশুদের হাতের কাজ এবং বিভিন্ন ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। যাতে ভবিষ্যতে তাঁরা নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন। টান্ডা ও বাগ এলাকায় আদিবাসী শিশুদের জন্য হস্টেল তৈরি করা হয়েছিল। মনাওয়ার পরগনার বাগ এলাকায় পাণ্ডব গুহা পাহাড়ে বন দফতরের তত্ত্বাবধানে একটি মডেল স্কুলও গড়ে তোলা হয়েছিল। পড়ুয়াদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও ছিল। এ ছাড়াও আদিবাসী সম্মেলনের আয়োজন করে তাঁদের সমস্যার কথা শোনা এবং গ্রামে গ্রামে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে কমিশন গঠন-

সমাজের পিছিয়ে পড়া ও বঞ্চিত সম্প্রদায়ের প্রকৃত অবস্থা জানতে কমিশনও গঠন করেছিল গোয়ালিয়র। এই কমিশনের কাজ ছিল সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সমস্যা, চাহিদা এবং সামাজিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা। এর জন্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং সমাজ সংস্কারের কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখিত পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল। তাঁদের প্রস্তাব রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের অতিরিক্ত সচিবের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছিল।

আম্বেদকরের উচ্চশিক্ষায় সাহায্য করেছিলেন বদোদরার মহারাজা-

সিন্ধিয়া রাজপরিবারের পাশাপাশি দেশের অন্য কয়েকটি রাজপরিবারও সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বদোদরার মহারাজা সয়াজিরাও গায়কোয়াড়।

সমাজ সংস্কারক জ্যোতিবা ফুলে এবং ডঃ ভীমরাও আম্বেদকরের শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেছিলেন তিনি। আম্বেদকরকে উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সাহায্য ও বৃত্তি দেওয়া হয়েছিল। এই সহযোগিতার ফলেই আমেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান আম্বেদকর।

সংবিধানের আগেই শুরু হয়েছিল সামাজিক সমতার লড়াই-

গোয়ালিয়রের সিন্ধিয়া, বডোদরার গায়কোয়াড় এবং কোলহাপুরের ভোঁসলে রাজপরিবারের মতো একাধিক দেশীয় রাজ্যে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর সাম্য, স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে। তবে তার অনেক আগেই কয়েকটি রাজ্যে পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু হয়েছিল।

সিন্ধিয়া রাজপরিবারের ১৯৪৫ সালের ঘোষণা সেই ইতিহাসেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দলিতদের সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে আদিবাসী শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি—এই উদ্যোগগুলি প্রমাণ করে, স্বাধীনতার আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সামাজিক বৈষম্য দূর করার ভাবনা গুরুত্ব পেতে শুরু করেছিল।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us