
নয়া দিল্লি: আপনার নামে সিম কার্ড (SIM Card)। কিন্তু, অন্য কেউ ব্যবহার করছেন? কিংবা আপনার অজান্তেই পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অন্য কেউ সিম তুলে রেখেছেন? তাহলে এখনই সতর্ক হন। সিম কার্ডের অপব্যবহার নিয়ে মোবাইল গ্রাহকদের সতর্ক করল টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ বা DoT। প্রতারণা করে সিম নেওয়া, অন্যকে নিজের নামে থাকা সিম ব্যবহার করতে দেওয়া কিংবা আইএমইআই নম্বরে (Mobile IMEI) কারচুপি করলে হতে পারে কড়া শাস্তি। বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে।
টেলিকমিউনিকেশন অ্যাক্ট, ২০২৩ অনুযায়ী, জানেন কি আপনার সিম কার্ড অন্য কেউ ব্যবহার করলে এই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। ২১ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্দেশিকায় এই বিষয়ে সতর্ক করেছে টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ।
সম্প্রতি, সাইবার অপরাধের তদন্তে চাঞ্চল্যকর ঘটনার হদিশ পাওয়া গিয়েছে। ছত্তীসগঢ়ের এক এজেন্টের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অজান্তেই তাঁদের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ২৫টি মোবাইল কানেকশন অ্যাক্টিভ করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনা সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট এজেন্টকে ব্ল্যাকলিস্ট করে DoT এবং টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি। ফলে ওই এজেন্ট আর নতুন সিম ইস্যু করতে পারবে না। একই সঙ্গে ২৫টি মোবাইল কানেকশন DoT-এর ডিজিটাল ইন্টিলিজেন্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়।
এই ঘটনার পরই গ্রাহকদের সতর্ক করেছে কেন্দ্র। কারণ, আপনার অজান্তেও আপনার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মোবাইল নম্বর নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
DoT-এর সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নিজের নামে ইস্যু হওয়া সিম অন্য কাউকে দিলে বিপদ হতে পারে। সেই সিম পরবর্তী সময়ে কোনও বেআইনি কাজে ব্যবহার করা হলে আসল গ্রাহকও আইনি গেরোয়া পড়তে পারেন। অর্থাৎ নিজের নামে সিম তুলে অন্যকে ব্যবহার করতে দেওয়া, ভাড়া দেওয়া বা সাইবার প্রতারণার জন্য ‘মিউল সিম’ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়ার মতো কাজ বিপদ ডেকে আনতে পারে।
ভুয়ো নথি, বা অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে সিম কার্ড নেওয়া যাবে না। নিজের নামে থাকা সিম কার্ড বিক্রি, হস্তান্তর কিংবা অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক করেছে DoT।
এছাড়া, পরিবর্তনযোগ্য বা কারচুপি করা IMEI নম্বর রয়েছে, এমন মডেম, সিম বক্স বা অন্য কোনও ডিভাইস ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনও অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অন্য কোনও প্রযুক্তি ব্যবহার করে কলিং লাইন আইনডেন্টিট বা CLI-সহ টেলিকম আইডেন্টিফায়ার পরিবর্তন করতেও নিষেধ করা হয়েছে।
আপনার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কতগুলি মোবাইল নম্বর নেওয়া হয়েছে, তা সরকারের সঞ্চার সাথী প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যাচাই করা যায়। সেখানে নিজের নামে থাকা মোবাইল কানেকশনগুলি পরীক্ষা করতে পারবেন। কোনও নম্বর আপনার পরিচিত না হলে বা সেটির প্রয়োজন না থাকলে ব্লক করার আবেদনও করা যায়।
ওই প্ল্যাটফর্মে চেক জেনুইননেস অব ইউর মোবাইল হ্যান্ডসেট পরিষেবার মাধ্যমে মোবাইলের IMEI নম্বরও যাচাই করা যায়। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ফোনের ব্র্যান্ড, মডেল সংক্রান্ত তথ্য জানা সম্ভব।
তাই DoT-এর পরামর্শ, নিয়মিত নিজের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত মোবাইল নম্বর পরীক্ষা করুন। কোনও অচেনা নম্বর চোখে পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। একইভাবে মোবাইল ফোনের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে IMEI-ও যাচাই করুন। কারণ আপনার নামে থাকা কোনও সিম অন্যের হাতে গিয়ে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হলে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন আপনিও।