
কোয়েম্বাটোর: কৃষিজমির স্বাস্থ্য ফেরাতে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে কৃষি পদ্ধতির প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ। কোয়েম্বাটুরে (Coimbatore) সদগুরুর ‘সেভ সয়েল রিজেনারেটিভ রেভলিউশন’ মডেল ফার্মে মাটির জীববিজ্ঞান নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করল সয়েল ফুড ওয়েব স্কুল (SFW)। ১০ দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিশ্বের ১০টি দেশের মোট ৪৬ জন অংশগ্রহণ করেছেন। নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, ইরান, আমেরিকা, কোস্টারিকা-সহ বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ভারতের সাতটি রাজ্য থেকেও যোগ দেন অনেকে।
গত ৩০ অক্টোবর এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয়েছে। ‘সয়েল ফুড ওয়েব স্কুল’ একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষামূলক ও প্রশিক্ষণ সংস্থা। কৃষক, পরিবেশকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয় এই সংস্থা। মাটির জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সদগুরুর নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিশ্বব্যাপী ‘সেভ সয়েল’ অর্থাৎ মাটি বাঁচানোর আন্দোলনের অংশ হিসেবেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
এই প্রসঙ্গে সয়েল ফুড ওয়েব স্কুল-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ইভান বাকম্যান বলেন, “ভারতে প্রথমবারের মতো তাদের ওয়ার্কশপ আয়োজন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কৃষকদের সঙ্গে সেভ সয়েলের সরাসরি কাজ এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় এই উদ্যোগের অন্যতম কারণ।
উল্লেখ্য, সেভ সয়েল মডেল ফার্মগুলি মূলত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং প্রদর্শনের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। সেখানে মাটির স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে কৃষিকাজ, প্রাকৃতিক চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি পরীক্ষা ও প্রদর্শন করা হয়। এর মূল লক্ষ্য মাটিতে জৈব উপাদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করা এবং কৃষিকাজকে আরও লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তোলা।
এই কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর দু’দিনের ‘লাইফ ইন দ্য সয়েল’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে অংশ নিয়েছিলেন ৬১ জন। এরপর ১৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলে ১০ দিনের ‘সয়েল ফুড ওয়েব অ্যাক্সিলারেটর ওয়ার্কশপ’। এতে ১০টি দেশের ছয়টি মহাদেশের ৪৬ জন অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কৃষক, কৃষি পরামর্শদাতা, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, কৃষি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত পেশাদার, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধি এবং মাটি বিষয়ক বিজ্ঞানীরা।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা মাটির জীববিজ্ঞান এবং সুস্থ কৃষি বাস্তুতন্ত্র বজায় রাখতে মাটির বিভিন্ন অণুজীবের ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা পান। পাশাপাশি কম্পোস্ট তৈরির পদ্ধতিও হাতে-কলমে শেখানো হয়। জৈব উপাদান নির্বাচন ও মিশ্রণ থেকে শুরু করে কম্পোস্টের স্তূপ তৈরি, পর্যবেক্ষণ, উল্টে দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আর্দ্রতা ও বায়ু চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মাইক্রোস্কোপের ব্যবহার। মাটি, কম্পোস্ট এবং বিভিন্ন তরল জৈব উপাদানের নমুনা মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে পরীক্ষা করে অণুজীব শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাটির নমুনা সংগ্রহ এবং জমির পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কৃষিকাজে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ডিরেক্টর অব অ্যাডভান্সড এডুকেশন লোইডা জানান, বিভিন্ন ধরনের কম্পোস্ট পাশাপাশি তৈরি করে তার পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। কেন একটি কম্পোস্টের স্তূপ অন্যটির তুলনায় আলাদা আচরণ করছে, কোথায় পরিবর্তন প্রয়োজন, তা হাতে-কলমে বোঝার সুযোগ হয়েছে তাঁদের। তাঁর কথায়, কম্পোস্ট তৈরি শুধু নির্দিষ্ট কোনও পদ্ধতি অনুসরণ করা নয়, বরং পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করাও শেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিভিন্ন দেশের কৃষি ও পরিবেশ সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের এলাকার মাটি ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী কীভাবে মাটির জীববিজ্ঞানের নীতিগুলি কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন। প্রশিক্ষণ শেষে নিজেদের খামার, সংস্থা এবং স্থানীয় কৃষি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়েই তাঁরা ফিরে যান।