
কলকাতা : ব্যস্ত প্ল্যাটফর্ম। ট্রেনের হুইসেল, শয়ে শয়ে মানুষের আনাগোনা। ভিড়ের মাঝেই বিভিন্ন স্টেশন থেকে বহু শিশুর হারিয়ে যাওয়ার খবর সামনে আসে প্রায়ই। তবে, জানেন কি, সেই হারিয়ে যাওয়া শিশুদের জন্য রেলপথে সর্বক্ষণের প্রহরী রয়েছে। নীরব প্রহরী। হারিয়ে যাওয়া শিশুদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে দিনরাত চলছে কড়া নজরদারি। পূর্ব রেলের (Eastern Railway) বিশেষ মিশনের নাম অপারেশন নানহে ফরিশতে (Operation NANHE FARISHTEY)। পূর্ব রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী মিলিন্দ দেউস্করের নেতৃত্বে ও পূর্ব রেলের আইজি বা প্রধান মুখ্য নিরাপত্তা কমিশনার শ্রী অমিয় নন্দন সিনহার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে কোনও শিশু অন্ধকারে তলিয়ে না যায়।
রেলের মিশন অপারেশন নানহে ফরিশতে
অপারেশন নানহে ফরিশতে (Operation NANHE FARISHTEY)। এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে আরপিএফ (RPF) সাধারণত হারিয়ে যাওয়া বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার করে। তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়। দেখা গিয়েছে, এই মিশনে বহু শিশু তাদের পরিবারের কাছে ফিরে গিয়েছে। প্রতি বছর উদ্ধার হওয়া শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৪-২৫ সালে ৭৬২ জন ছেলে এবং ৪৪২ জন মেয়েসহ মোট ১২০৯ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর তাদের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ সালে আরপিএফ-এর নজরদারি আরও তীব্র হয়েছে। ওই সময়কালে ৮৭৬ জন ছেলে ও ৫৩১ জন মেয়েসহ মোট ১৪০৭ জন শিশুকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুধু শিশুদের উদ্ধার করা নয়। মানব পাচারের অন্ধকার থেকে শিশুদের রক্ষা করতে পূর্ব রেলওয়ে-র আরও একটা উদ্যোগ হল অপারেশন আহট (Operation AAHT)। এই মিশনের লক্ষ্য হল পাচারকারীদের খপ্পর থেকে শিশুদের প্রাণ বাঁচানো। ২০২৪-২৫ সালে ১১৮ জন শিশু (৯৭ জন ছেলে এবং ২১ জন মেয়ে) এবং ৬ জন প্রাপ্তবয়স্ককে উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনায় ৫৭ জন পাচারকারীকে গ্রেফতারও করা হয়। এই ধারা ২০২৫-২৬ সালেও অব্যাহত ছিল। ওই বছর আরপিএফ ১২৪ জন শিশু (৮০ জন ছেলে এবং ৪৪ জন মেয়ে) এবং এক জন প্রাপ্তবয়স্ককে উদ্ধার করেছে। ঘটনায় ৬৮ জন পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বজায় রাখতে ৭০টি অ্যান্টি-হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট (AHTU) নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে।
বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে পূর্ব রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাজি বলেন, “আমরা প্রতিটি হারিয়ে যাওয়া শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”