
নয়া দিল্লি: এসএসসি মামলায় বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের। শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বেতন ফেরতের নির্দেশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল শীর্ষ আদালত। এখনই কাউকে বেতন ফেরত দিতে হবে না। তবে প্রত্যেককে মুচলেকা দিতে হবে। নিয়োগ বেআইনি প্রমাণ হলে ‘অযোগ্যদের’ টাকা ফেরাতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, পুরো প্যানেল বাতিল করা শেষ পদক্ষেপ হওয়া উচিত। যোগ্য-অযোগ্য পৃথকীকরণ সম্ভব হলে, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র তাঁদেরই চাকরি বাতিল হওয়া উচিত।
এদিনের শুনানির পর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, আদালত আপাতত বেতন ফেরতের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে। তবে একইসঙ্গে এও জানিয়েছে, যাদের নিয়োগ বেআইনি ধরা পড়বে, তাদের বেতন ফেরত দিতে হবে। এর পাশাপাশি সুপার নিউমেরারির তদন্তে মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে এখনই সিবিআই কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। যদিও সিবিআই তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ১৬ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে শুনানি শুরু হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। গতকাল শুনানির কথা থাকলেও, তা শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠেনি। প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বলেছিলেন, তাঁরা ঠান্ডা মাথায় মামলাটি শুনতে চান। সেই মতো আজ সকাল সাড়ে দশটা থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে চলে এসএসসি মামলার শুনানি পর্ব। রাজ্য সরকার, এসএসসি, মধ্য শিক্ষা পর্ষদ, চাকরিহারাদের আইনজীবী, বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবী সকলেই নিজেদের বক্তব্য আদালতে পেশ করেন। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার দীর্ঘ শুনানির পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দিল, এখনই বেতন ফেরত দিতে হবে না। শুধু তাই নয়, প্রায় ২৬ হাজারের কাছাকাছি নিয়োগ, এখনই বাতিল হচ্ছে না। সেটির উপরেই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত।
উল্লেখ্য, এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের রায় ছিল, যাদের প্যানেল বহির্ভূত নিয়োগ এবং যারা ফাঁকা ওএমআর শিট জমা দিয়েও চাকরি পেয়েছেন, তাদের সম্পূর্ণ বেতন ১২ শতাংশ সুদ-সহ ফেরত দিতে হবে। আপাতত হাইকোর্টের রায়ের এই অংশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।