Supreme Court: ‘ইমার্জেন্সির সময় শেষবার এই আবেদন এসেছিল’, কেন মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকল, ম্যাপ দিয়ে ব্যাখ্যা করতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

Delhi Protest: প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবল বলেন, "আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে চার কিলোমিটার এলাকায় নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে। কিন্তু এই চার কিলোমিটারের বাইরে ব্যারিকেড প্রত্যাহার করা হোক। কাউকে যেন এই চার কিলোমিটারের বাইরে আটক করা না হয়।"

Supreme Court: ইমার্জেন্সির সময় শেষবার এই আবেদন এসেছিল, কেন মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকল, ম্যাপ দিয়ে ব্যাখ্যা করতে বলল সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্টImage Credit source: PTI

| Edited By: ঈপ্সা চ্যাটার্জী

Oct 11, 2026 | 12:11 PM

নয়া দিল্লি: সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তা মানা হয়নি। কেন্দ্র,  দিল্লি পুলিশ ও দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়। আজ, রবিবারই শীর্ষ আদালতে চলছে সেই মামলার শুনানি। প্রধান বিচারপতিকে আইনজীবীরা জানালেন, গতকালের ধরপাকড়ে দিল্লি পুলিশ রাষ্ট্র হতে শুধু এক ধাপ বাকি ছিল।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লি সম্পূর্ণ বন্ধ না করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবারের সেই নির্দেশ মানেনি প্রশাসন। বন্ধ রাখা হয় ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। বাতিল হয়েছিল শতাধিক ট্রেন।  এর প্রেক্ষিতে আইনজীবী ত্রিপাঠী এবং মেনকা গুরুস্বামী আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং ডিএমআরসি (DMRC) চেয়ারম্যান ডি থারার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এজলাসে উপস্থিত ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। সরকারের আরোপ করা অবরোধের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন রিলিফ চান কপিল সিবল। তিনি শীর্ষ আদালতে বলেন, “ট্রেন থেকে মানুষজনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ৪ কিলোমিটার বাইরে এলাকা থেকেও লোকজনকে আটক করা হচ্ছে। ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। এটি আদালতের নির্দেশ অমান্য করার আওতায় পড়ে।”

আইনজীবীদের হেনস্থা করা এবং আটক করার বিষয় উল্লেখ করেন আইনজীবী শাদান ফারাসত। তিনি জানান, শনিবারের বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে, তাঁকে চলন্ত বাসে ছুঁড়ে ফেলা হয়। তিনি বলেন যে এটা আইনজীবীদের অধিকার পার করে গিয়েছে। এই বিষয়টি এখন প্রতিটি নাগরিকের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার অধিকার। দিল্লির পরিস্থিতি সেরকম নেই বলেই উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, “পুলিশ রাজ্যে পরিণত হওয়া থেকে এক ধাপ দূরে রয়েছি। মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার প্রতিষ্ঠা করুক সুপ্রিম কোর্ট।”

আইনজীবী গোপাল সুব্রামনিয়াম বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের বাইরে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। ব্যারিকেড সরিয়ে সাধারণ মানুষের বাধাহীন ভাবে চলাফেরার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হোক। মেট্রো স্টেশন খুলে দেওয়া হোক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও ট্রেন বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়নি। নিরস্ত্র ছাত্র-ছাত্রীদের নির্মমভাবে মারছে পুলিশ। সেই সম্পর্কিত একাধিক ভিডিয়োও রয়েছে।”

তিনি অনুরোধ করেন, “ব্যাজ ছাড়া পুলিশ কর্মীদের মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হোক। এ বিষয়ে আমরা আগেও অভিযোগ করেছি। সুপ্রিমকোর্ট এ বিষয়ে নির্দেশ দিক।”

এফআইআর করা হবে বলে আইনজীবীদের গতকাল হুমকি দিয়েছে পুলিশ। এই অভিযোগ করেন আরেকজন আইনজীবী। কোর্টরুমের ভিতরে আইনজীবীরা চিৎকার করতেই  তাঁদের সতর্ক করেন বিচারপতি ভি মোহনা এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি।

এক এক করে আইনজীবীরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন। পুলিশ গতকাল কিভাবে আইনজীবীদের হেনস্থা করেছে সেই বিষয়ে। আরেক আইনজীবীর অভিযোগ, দিল্লির বাইরে থেকে পুলিশ আগে থেকে সাধারণ মানুষকে আটক করেছে। নয়ডা, গুরগাঁও-তে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আগাম আটক করেছে পুলিশ। তিনজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।

এরপরই মামলাকারী আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলতে ওঠেন। আদালত অবমাননার মামলা উল্লেখ করলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্নোত্তর-

বিচারপতি বাগচী বলেন, “আমাদের নির্দেশের পর সরকার নতুন কি পদক্ষেপ করেছে সে বিষয়ে মঙ্গলবার এর মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে সরকারকে।”

মেনকা গুরুস্বামী: সাংসদদের বাড়ির সামনে ব্যারিকেড করে আটকে দেওয়া হয়েছে। তাদের আটক করে সারা শহর প্রিজন ভ্যানে ঘোরানো হয়েছে। অঘোষিত এমার্জেন্সি চলছে। ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। আমরা জানতে পারিনি কত মানুষকে অবৈধভাবে আটক করে সারা শহরে ঘোরানো হয়েছে। চারজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং সাংসদদের আটক করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী দেশের এমার্জেন্সি পরিস্থিতি ছাড়া কখনও সংবিধান স্বীকৃত প্রতিবাদ করা, শান্তিপূর্ণ মার্চ করার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। সুপ্রিম কোর্ট ইমার্জেন্সি সময় হস্তক্ষেপ করেছিল। আমরা আবার আপনার দ্বারস্থ হয়েছি। যে সরকারি আধিকারিকরা দায়িত্বে ছিলেন তাদের শোকজ করে আদালতে হাজিরা দিতে বলা হোক। আমরা আবেদন করছি।

মেনকা গুরুস্বামী : ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে আমরা অনলাইন পিটিশন ফাইল করতে পারছিলাম না। সুপ্রিম কোর্টের সামনে রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। আমরা সুপ্রিমকোর্টে এসে মামলা দায়ের করতে পারছিলাম না।

মেনকা গুরুস্বামী: সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা (blanket prohibitory order) প্রত্যাহার করা হোক। যে আধিকারিকরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হোক। এই ঘটনা সুপ্রিম কোর্টের অবমাননা নয়, সংবিধানের অবমাননা।

সরকারের কী নির্দেশ ছিল এবং কি কি ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলছেন সলিসিটর জেনারেল।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী: ৫৭ টা মেট্রো স্টেশন বন্ধ করার পর আমরা নির্দেশ দিয়েছিলাম। এরপর আপনারা ৪৫টা স্টেশন বন্ধ করেছেন। কি কারণে এই ৪৫টা স্টেশন বন্ধ করতে হল? বন্ধ করা স্টেশনের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী গুরুত্ব কি? তা ম্যাপ আকারে মঙ্গলবারের মধ্যে জমা দিন। সলিসিটর জেনারেলকে নির্দেশ দিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী।

আজ সব মেট্রো চলছে বলে জানালেন তুষার মেহতা।

আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি অবনতি না হলে সব মেট্রো স্টেশন চালু রাখার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি অবনতি হলে তখন আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। একইসঙ্গে ইন্টারনেট পরিষেবা অবিলম্বে চালু করার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।

রেলওয়ে সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়ার পরও সরকার কি পদক্ষেপ করেছেন মঙ্গলবার এর মধ্যে তার স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।

গতকাল রাত থেকে ইন্টারনেট চলছে বলে জানালেন তুষার মেহতা।

সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা, আইনজীবীদের পেশাদারী দায়িত্ব পালনে কোনভাবে বাধা দেওয়া যাবে না।

আইনজীবীরা জানালেন সুপ্রিম কোর্টের বাইরে ব্যারিকেড টানা আছে। ১৬৩ ধারা জারির নোটিশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের গেটের সামনে।

কপিল সিব্বল: আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে চার কিলোমিটার এলাকায় নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে। কিন্তু এই চার কিলোমিটারের বাইরে ব্যারিকেড প্রত্যাহার করা হোক। কাউকে যেন এই চার কিলোমিটারের বাইরে আটক করা না হয়। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার দেওয়া হোক। চার কিলোমিটারের মধ্যেও প্রতিবাদ করার অধিকার দেওয়া হোক। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ব্যবস্থা নিতেই পারে। সারা শহরে ইন্টারনেট চালু রাখতে হবে। ডিটেনশন বন্ধ করতে হবে। সাংবাদিকদের কাজে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এটা হওয়া উচিত নয়।

বিচারপতি বাগচী: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার অবশ্যই সংবিধান স্বীকৃত। কিন্তু সেই অধিকার নিয়ন্ত্রণ হতে পারে না, এমনটা নয়। অবশ্যই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখতে হবে।

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা: মেট্রো চালু আছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ষ্টেশনের এন্ট্রি পয়েন্ট বন্ধ রাখতে হয়েছে। ট্রেন স্বাভাবিক চলছে। ইন্টারনেট পরিষেবা চালু। সুপ্রিম কোর্টের চারপাশে ১৬৩ ধারা জারি বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন মেহেতা।

আইনজীবী গোপাল সুব্রামানিয়াম অভিযোগ করলেন, আজ শুনোনির সময় আইনজীবীদের আসতে বাধা দিয়েছে পুলিশ।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us