
নয়া দিল্লি: মহিলার সালোয়ার খুলে নেওয়ার চেষ্টা এবং তাঁর বুকে হাত দিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্থা ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ হিসাবে গণ্য করা যায় না। এই রায় দিয়েছিল পটনা হাইকোর্ট। সেই রায় নিয়ে এবার স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা-র বেঞ্চ এই মামলাটি গ্রহণ করেছে। শুনানির সময় বেঞ্চের তরফে জানানো হয়, পটনা হাইকোর্টের রায়ের কিছু পর্যবেক্ষণ আপত্তিকর বলে মনে হয়েছে।
বিহারের অ্যাডভোকেট জেনারেল এসডি সঞ্জয়ের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “কিছু আপত্তিকর পর্যবেক্ষণ রয়েছে।” তবে অভিযুক্তের বয়ান না শুনে হাইকোর্টের রায় বাতিল করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, “স্থানীয় পুলিশের মাধ্যমে নিশ্চিত করুন, যাতে অভিযুক্তের কাছে নোটিস পৌঁছে যায়।”
পটনা হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, কোনও মহিলার সালোয়ার খুলে নেওয়ার চেষ্টা এবং তাঁর বুকে চাপ দিয়ে শারীরিক হেনস্থা করা ধর্ষণের চেষ্টা বলা যায় না। যদি ধর্ষণের চেষ্টা করার উদ্দেশ্য স্পষ্ট কোনও প্রমাণ করার মতো কাজ বা লিঙ্গ প্রবেশের মতো প্রমাণ না থাকে, তাহলে সেটিকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, এই অভিযোগগুলি সর্বোচ্চ একজন মহিলার শ্লীলতাহানি করার অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৫৪ ধারায় এই অপরাধের কথা বলা হয়েছে। সেই কারণে ৩৭৬ ধারার সঙ্গে ৫১১ ধারা মিলিয়ে দেওয়া সাজাও বাতিল করে দিয়েছিল আদালত।
এর আগে জুলাই মাসে অন্য একটি মামলার শুনানির সময় পটনা হাইকোর্টের এই রায়ের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছিল। সেই মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি রায় নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এলাহাবাদ হাইকোর্ট বলেছিল, “এক নাবালিকার স্তন চেপে ধরা, তার পায়জামার দড়ি ছিঁড়ে দেওয়া এবং একটি কালভার্টের নিচে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ হিসেবে গণ্য হবে না।”
শুনানির সময় সিনিয়র আইনজীবী শোভা গুপ্তা সুপ্রিম কোর্টকে জানান, এলাহাবাদ হাইকোর্টের ওই রায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছিল এবং পরে সেই রায় বাতিলও করে দিয়েছিল। কিন্তু একই ধরনের ঘটনায় একই ধরনের পর্যবেক্ষণ দিয়ে পটনা হাইকোর্টও রায় দিয়েছে। সিনিয়র আইনজীবী এইচএস ফুলকা তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেন।
এরপর সুপ্রিম কোর্ট এলাহাবাদ হাইকোর্টের ওই বিতর্কিত রায় বাতিল করে দেয়। পাশাপাশি, যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় বিচারকদের আরও সংবেদনশীলভাবে বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য একাধিক নির্দেশিকাও জারি করে।