
নয়াদিল্লি: ১৭ নভেম্বরের মধ্যে টুলু মন্ডলকে ভারতে ফিরে আসার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। দুবাইয়ে পালিয়ে যাওয়া এবং কোটি কোটি টাকা স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। টুলু মণ্ডলকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভারতে ফিরে আসার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে তাঁকে দেশে ফিরে আসতে হবে। একইসঙ্গে আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে কোনো কড়া বা জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ (Coercive Action) করবে না পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
গত ২৯ অক্টোবর এই মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সুপ্রিম কোর্টকে জানান যে, টুলু মণ্ডল গত ২৩ মে পরিবার নিয়ে দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে চলে গিয়েছেন। সেখানে তিনি ১০ বছরের ‘গোল্ডেন পারমিট’ বা গোল্ডেন ভিসা নিয়ে বসবাস করছেন। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দুবাইয়ের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৫২ কোটি টাকা স্থানান্তরের গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়।
এদিনের শুনানিতে টুলু মণ্ডলের আইনজীবী মুকুল রোহতগী আদালতে জানান যে, রক্ষাকবচ পেলে তাঁর মক্কেল দেশে ফিরতে প্রস্তুত। তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ করছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বলে দাবি করে আইনজীবী সওয়াল করেন, ” তিনি (টুলু) দাউদ ইব্রাহিম নন, দেশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা নিয়ে গিয়ে তিনি দুবাইতে বৈধ ব্যবসা করছেন।”
এই সওয়ালের প্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশের বক্তব্য জানতে চায় সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ। রাজ্য পুলিশের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আশ্বাস দেন যে, টুলু দেশে ফিরলে আপাতত তিন সপ্তাহ তাঁকে গ্রেফতার করবে না পুলিশ, তবে তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি, আইনি রক্ষাকবচ পেয়ে দেশে ফিরে টুলু যাতে প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রভাবিত করতে না পারেন এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্ট না করেন, সে বিষয়ে কোর্টকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানান তিনি।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে, ১৭ নভেম্বরের মধ্যে টুলু মণ্ডলকে ভারতে ফিরে আসতে হবে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করবে না। তবে এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরবর্তী আইনি রক্ষাকবচের জন্য তাঁকে স্থানীয় আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আবেদন করতে হবে।
উল্লেখ্য, টুলু মণ্ডল হলেন বীরভূম জেলার একজন প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী এবং পাথর খাদানের মালিক। একসময়ের লরির ড্রাইভার বা দিনমজুর থেকে তিনি কোটিপতি এবং বীরভূমের অন্যতম বড় পাথর মাফিয়া হিসাবে অভিযুক্ত