Supreme Court on PSC: ‘পেনশনের টাকা নিলে বেতনের থেকেও বেশি হয়ে যাবে’, কেন এত বড় বলল সুপ্রিম কোর্ট?

New Delhi: সব দিক বিবেচনা করে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের রায় খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা উত্তরাখণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে নিযুক্ত হলে তাঁদের বেতন থেকে আগের চাকরির পেনশন বাদ দেওয়ার নিয়মই বহাল থাকল।

Supreme Court on PSC: পেনশনের টাকা নিলে বেতনের থেকেও বেশি হয়ে যাবে, কেন এত বড় বলল সুপ্রিম কোর্ট?
বাঁদিকে বিচারপতি এস ভি এন ভাট্টি ডানদিকে বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়াImage Credit source: Tv9 Bangla

Nov 05, 2026 | 9:17 AM

নয়াদিল্লি: বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। অবসর নেওয়ার পর কোনও সরকারি কর্মী যদি উত্তরাখণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (UKPSC) চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে নিযুক্ত হন, তাহলে নতুন পদের বেতন থেকে আগের চাকরির পেনশনের টাকা বাদ দেওয়া যাবে। এই নিয়মের সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, নতুন পদে কাজ করার সময় আগের চাকরির পেনশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও তা পুরোপুরি বাতিল হয়ে যাচ্ছে না। নতুন দায়িত্ব থেকে অবসর নেওয়ার পর ফের সেই পেনশন পাওয়ার অধিকার থাকবে।

বিচারপতি এস ভি এন ভাট্টি এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। একই সঙ্গে ২০১০ সালে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের দেওয়া একটি রায় খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের নতুন পদের বেতন থেকে আগের চাকরির পেনশন বাদ দেওয়া সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ৩৯ (ডি) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এর ফলে ‘সমান কাজের জন্য সমান বেতন’ নীতি লঙ্ঘিত হচ্ছে বলেও মত দিয়েছিল হাইকোর্ট।

এই মামলার ব্যাকগ্রাউন্ড

মামলার সূত্রপাত এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিককে কেন্দ্র করে। তিনি ২০০৬ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদ থেকে অবসর নেন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে ‘উত্তরাখণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের’ চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু ২০০৪ সালের সার্ভিস রেগুলেশনের ৭ (২) নম্বর ধারা অনুযায়ী, তাঁর নতুন পদের বেতন থেকে আগের চাকরির পেনশনের টাকা বাদ দেওয়ার নিয়ম ছিল। এই নিয়মের বিরোধিতা করে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাই কোর্ট তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় উত্তরাখণ্ড সরকার।

শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, কোনও ব্যক্তি যখন কোনও নির্দিষ্ট পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন সেই পদের সঙ্গে যুক্ত নিয়মকানুন এবং চাকরির শর্ত সম্পর্কে তাঁর আগে থেকেই জানা থাকার কথা। সেই শর্ত মেনে পদ গ্রহণ করার পর পরবর্তী সময়ে তা নিয়ে আপত্তি তোলা যায় না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নিয়ম জেনেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কমিশনের চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে যোগ দিয়েছিলেন। তাই পরে সেই নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ তাঁদের নেই।

আদালত আরও জানায়, পেনশনের টাকা নতুন পদের বেতনের সঙ্গে যোগ করলে অনেক ক্ষেত্রে মোট প্রাপ্য অর্থ ওই পদের নির্ধারিত বেতনের চেয়েও বেশি হয়ে যেতে পারে। এমনকী তা সরকারের সর্বোচ্চ পদে নির্ধারিত বেতনকেও ছাপিয়ে যেতে পারে। তাই বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ‘পে মাইনাস পেনশন’ নীতি যুক্তিসঙ্গত।

এর আগে হরিয়ানার পাবলিক সার্ভিস কমিশন সংক্রান্ত একটি মামলাতেও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই মামলার নজির উল্লেখ করে বর্তমান মামলাতেও আদালত জানায়, নতুন পদে দায়িত্ব পালনের সময় আগের চাকরির পেনশন আটকে রাখা যেতে পারে। তবে নতুন পদ থেকে সরে আসার পর আগের চাকরিতে অর্জিত পেনশন পাওয়ার অধিকার ফিরবে।

সব দিক বিবেচনা করে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের রায় খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা উত্তরাখণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে নিযুক্ত হলে তাঁদের বেতন থেকে আগের চাকরির পেনশন বাদ দেওয়ার নিয়মই বহাল থাকল।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us