
নয়া দিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের। এনসিপিআই সাংসদদের সাংসদপদ খারিজের দাবিতে লোকসভার স্পিকার, জেনারেল সেক্রেটারি ও ২০ জন সাংসদকে পার্টি করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের দায়ের করা ওই মামলায় স্পিকার বাদে বাকিদের উদ্দেশ্যে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
২০ জন সাংসদ তৃণমূলের প্রতীকে লোকসভা নির্বাচনে জিতলেও, এখন দল থেকে বেরিয়ে গিয়ে পৃথক পরিচয়ে সংসদীয় পদ গঠন করতে চেয়ে এনসিপিআই পরিচয় নিয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিল। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর প্রায় এক মাস আগেই তাঁরা এই আবেদন জানিয়েছিল। এর ঠিক এক সপ্তাহ পরেই স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সুদীপ-কাকলিদের এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে ২০ জন সাংসদের নামে ২০টি আলাদা চিঠিও দেন অভিষেক। আইন অনুযায়ী, ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন করেন তিনি।
বাদল অধিবেশন কেটে গেলেও, দলত্যাগ বিরোধী আইনে স্পিকার ওই ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেননি, এই অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। সেই মামলারই আজ শুনানি হয়। সেই মামলায় এনসিপিআই-র ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে নোটিস জারি করে সুপ্রিম কোর্ট। স্পিকারের বক্তব্য ছাড়া নোটিস ইস্যু করা হবে না বলেই উল্লেখ করে শীর্ষ আদালত।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার হয়ে শীর্ষ আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি বলেন যে স্পিকার যেহেতু সাংবিধানিক পদাধিকারী, তাঁর উদ্দেশ্যে নোটিস জারি না করার জন্য আবেদন জানান সলিসিটর জেনারেল। সেই আবেদন মেনে নেয় সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলায় স্পিকারের অবস্থান জানতে চেয়ে কোনও নোটিস ইস্যু করেনি শীর্ষ আদালত। জানা গিয়েছে, নোটিস ইস্যু করা হয়নি সেক্রেটারি জেনারেলের উদ্দেশ্যেও।
তুষার মেহতা জানান, এনসিপিআই সাংসদদের দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী সাংসদ পদ খারিজের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রক্রিয়া শুরু করেছেন লোকসভার স্পিকার। অভিষেকের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাংসদদের বক্তব্য জানতে চেয়ে ২০ জনকে স্পিকারের তরফে আলাদা নোটিস ইস্যু করা হয়েছে বলে এদিন প্রধান বিচারপতির এজলাসে জানান সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে জানানোর জন্য স্পিকারের অফিস থেকে সলিসিটর জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
এ দিন অভিষেকের দায়ের করা মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে স্পিকার সিদ্ধান্ত নিন – এই বিষয়ে আবেদন করা হয়েছে। ফলে একজন সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁর বক্তব্য না শুনে, সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।”
এই মামলায় এনসিপিআই-এর কুড়ি জন সংসদের উদ্দেশ্যে নোটিস জারি করলেও স্পিকার এবং সেক্রেটারি জেনারেলের উদ্দেশ্যে নোটিশ জারি করেননি প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। দুই সপ্তাহ পরে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
অভিষেকের আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়েছিলেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট আজ ডিসকোয়ালিফিকেশন পিটিশন নিয়ে নোটিস ইস্যু করেছে। তুষার মেহতা স্পিকারের হয়ে উপস্থিত ছিলেন। ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে নোটিস ইস্য়ু হয়েছে। এই তো সবে খেলা শুরু। বলতে হয়নি কিছুই। আইন আমাদের পক্ষে এতটাই, ২০ জন সাংসদ মিলে এতটাই বেআইনি কাজ করেছে, এখন স্পিকার ফেলে রেখে দিয়েছেন, এটা যে কত বড় অসাংবিধানিক কাজ, তা সবার কাছে স্পষ্ট। সুপ্রিম কোর্ট নিজেই নোটিস ইস্যু করেছে। অনেকদিন পর একটা মামলায় মুখ খুলতে হল না।”