
নয়া দিল্লি: নারী শরীরে তাদের অধিকারের লড়াই দীর্ঘ সময় ধরে চলছে। এবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)-ও বলল সরকারের উচিত সকলের ব্যক্তিগত পছন্দকে সম্মান করা। ১৫ বছরের নাবালিকা ধর্ষিত হয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। ৩১ সপ্তাহের গর্ভবতী ওই কিশোরীর গর্ভপাতের (Teen Pregnancy) আবেদন পুনর্বিবেচনা নিয়ে সরকারকে তীব্র সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট।
বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে শুনানি চলছিল এই মামলার। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে এই ধরনের ঘটনায় আইন পরিবর্তন করতে বলে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই মামলার পর্যবেক্ষণে বলেন, “ধর্ষণের জেরে যখন কেউ গর্ভবতী হয়, তখন এই ধরনের সময়সীমা থাকা উচিত নয়। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে আইনেরও পরিবর্তন হওয়া উচিত। ধর্ষণের পর ওঁ (নাবালিকা) কী মনোকষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তার কোনও ক্ষতিপূরণ হয় না।”
অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য্য ভাটিকে ধমক দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, “জনগণকে সম্মান দিন, ম্যাডাম। আদালতের গর্ভপাতের অর্ডার চ্যালেঞ্জ করার কোনও অধিকার নেই আপনার। একমাত্র নির্যাতিতা বা তাঁর পরিবার চ্যালেঞ্জ করতে পারে।”
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “আমরা সকলের ব্যক্তিগত পছন্দকে সম্মান করি, এবং আপনারও তা করা উচিত। সম্ভাব্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকির যাবতীয় তথ্য নির্যাতিতার অভিভাবককে দেখান, যদি তারা তারপরও ভ্রূণ রাখতে চান, তাহলে তাই হোক। কিন্তু যদি তারা মনে করেন যে তাদের সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য বিপন্ন…তাহলে তারা সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন। নিজের চিন্তাভাবনা চাপিয়ে দেবেন না। এটা রাজ্য ও নাগরিকদের মধ্যে লড়াইয়ে পরিণত করবেন না। মনোবিদ ও কাউন্সিলরদের আনুন ওদের সাহায্য করতে। যারা সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম, তাদের হয়ে আমরা যেন সিদ্ধান্ত না নিই।”
নির্যাতিতার গর্ভপাতের সিদ্ধান্তের চ্যালেঞ্জ করে কেন্দ্রের অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য্য ভাটি বলেছিলেন যে এই পর্যায়ে গিয়ে গর্ভপাত সম্ভব নয়। এইমস এই সুপারিশ করেছে। ওই সন্তান বিকলাঙ্গ হবে, নাবালিকা মায়েরও আজীবন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা থাকবে। এখন একটাই উপায় রয়েছে, সন্তান প্রসব করা এবং তারপর দত্তকের জন্য দিয়ে দেওয়া। আর মাত্র চার সপ্তাহ।
অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেলের এই মন্তব্যের জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এটা শিশু ধর্ষণের ঘটনা…নির্যাতিতার আজীবন আঘাত ও ট্রমা থেকে যাবে। যদি পরবর্তী সময়ে জটিল বৈবাহিক জীবনও হয়, তাতে কী এই যন্ত্রণা কমে যাবে?“