
নয়া দিল্লি: এবারের দীপাবলি হোক বাজি-মুক্ত। আর্জি শীর্ষ আদালতের। বিরাট কোহলির মতো সেলিব্রেটিদের জনগণকে সচেতন করার কাজে ব্যবহারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি সরকারকে পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
এ দিন সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ ও বিচারপতি পিবি ভারালের বেঞ্চে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বায়ুদূষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছিল। সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে আতশবাজিতে নিষেধাজ্ঞার কথা যেন টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রচার করতে বলে। আলোর উৎসব যাতে দূষণ ছাড়াই উদযাপন করা হয়, তার জন্য জনপ্রিয় মুখ বা তারকাদের দিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার করানোর কথা বলে শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি ভারালে বলেন, “জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে না? ভালো ক্রীড়াবিদ বা সমাজের যে কোনও ক্ষেত্রের অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের কি এই কাজে ব্যবহার করা যায় না?”
বিচারপতি সুন্দরেশও বলেন, “দিল্লির জন্য আপনারা যদি বলেন, তাহলে অবশ্যই তারা এসে এই কাজ করবেন। আপনাদের সাহায্য করবেন। বিরাট কোহলির মতো বিখ্যাত ক্রিকেটার বা অন্য কাউকে অনুরোধ করুন যে দিওয়ালি যাতে উপভোগযোগ্য হয়, তার প্রচার করতে। আলোর উৎসব এটা। আগে সমস্যা ছিল না, আতশবাজি ব্যবহারের পর থেকেই সমস্যা শুরু হয়েছে।”
বিচারপতি পর্যবেক্ষণে বলেন যে উৎসব উদযাপনের জন্য এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়, যার ফলে অন্যদের অসুবিধা হয়। বাজির দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কেও শিশুদের সচেতন করার কথা বলেন তিনি। বায়ুদূষণ নিয়ে শিশুদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষা দফতরকেও যুক্ত করার পরামর্শ দেয় আদালত। বিচারপতিদের মত, “শিশুরা তাদের বাবা-মায়ের আচরণেও পরিবর্তন আনতে পারে।”
বিচারপতি সুন্দরেশ বলেন, “এবার শিক্ষা দফতরকে কিছু নির্দেশ দেওয়ার সময় এসেছে, যাতে তারা শিশুদের এই বিষয়ে সচেতন করে। সেখান থেকেই এই পরিবর্তন শুরু হওয়া উচিত। কীভাবে আমরা অন্য কারও অসুবিধা না করে উৎসব উদযাপন করতে পারি, তা ভাবতে হবে।”
আদালতের পর্যবেক্ষণ, নতুন প্রজন্মের মধ্যে পুরনো অভ্যাস বদলানোর প্রবণতা বেশি। তাই শিশুদের সচেতন করতে পারলে তারা পরিবারের সদস্যদেরও বাজি না ফাটানোর জন্য উৎসাহিত করতে পারে। এই প্রসঙ্গে বিচারপতি বলেন, “আমার সামান্য অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা এই বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা বুঝতে পারে, বাজি ফাটানো অন্যদের জন্য সমস্যা তৈরি করে। শিশুদের যদি সত্যিই সচেতন করা যায়, তাহলে তারাই বাবা-মাকে বাজি না ফাটানোর কথা বলবে। নতুন প্রজন্ম উৎসব পালন করতে চায়, তাতে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু তারা বাজি ফাটানোয় বিশ্বাসী নয়। এর প্রভাব কতটা বড় হতে পারে, তা একবার ভেবে দেখুন।”
দূষণের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে আদালত জানায়, শিশু, প্রবীণ, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি, অসুস্থ মানুষ, পাখি এবং পশু—সকলের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রাখতে হবে। আদালত স্বীকার করে যে উৎসবের সঙ্গে মানুষের আবেগ ও ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে। তবে সেই আবেগের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য এবং সংবিধান প্রদত্ত অধিকারগুলিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বিচারপতি সুন্দরেশ বলেন, “সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দেওয়া হলেও তা জনস্বাস্থ্য এবং সংবিধানের তৃতীয় ভাগে থাকা অন্যান্য মৌলিক অধিকারের শর্তসাপেক্ষ।”
আদালত জানায়, এই মুহূর্তে বাজির উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করতে তারা আগ্রহী নয়। কারণ, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রশাসনকে সতর্ক করে আদালত জানায়, তাদের নির্দেশ কার্যকর করতে ব্যর্থ হলে আদালতকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করা হবে।