
দিল্লি: ১৫ টাকায় কেনা ড্রিপ লাইন (চিকিৎসার সরঞ্জাম) রোগীর কাছে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। জীবনদায়ী ওষুধ ও চিকিৎসার সরঞ্জামের দামের এমন বিপুল ফারাক কেন? কেন্দ্রের থেকে জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ওষুধের কেনা দাম এবং রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া দামের মধ্যে এতটা ফারাক কেন, তার ব্যাখ্যা চেয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে ওষুধের দামের উপর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকার কেমন ভূমিকা নিচ্ছে তাও জানতে চাইল কোর্ট।
ডিভিশন বেঞ্চ কী বলেছে?
গত ২৭ অক্টোবর বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত দু’টি মামলার শুনানি ছিল। সেই শুনানিতেই ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা, হাসপাতাল এবং ওষুধের দামের উপর নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত।
শুনানি চলার সময় দামের ফারাক নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। ওষুধ ও চিকিৎসার সামগ্রীর দামের ক্ষেত্রে এত বিপুল ব্যবধান থাকলে ‘ড্রাগস প্রাইসেস কন্ট্রোল অর্ডার’ (ডিপিসিও) বা ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের নিয়মের কার্যকারিতা কোথায়, সেই প্রশ্নও তোলে কোর্ট। শুধু তাই নয়, এক ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইঞ্জেকশনের দাম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
শীর্ষ আদালতে কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করে, ওষুধের দামের উপরে নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়। এটা শোনার পর ডিভিশন বেঞ্চ ক্যানসারের একটি ইঞ্জেকশনের দামের ফারাকের উদাহরণ দিয়ে বলে, “ক্যানসারের একটি ইঞ্জেকশনের দাম কোথাও ১১ হাজার টাকা, কোথাও ১ লক্ষ ৩০ হাজার। এটা আপনাদের কেমন নজরদারি।” দুই আবেদনের শুনানিতে বিচারপতিদের প্রশ্ন, “কেন গোটা সিস্টেম নির্মাতাদের সাহায্য করে যাচ্ছে?”
কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্যা ভাটি জানান, বিদেশের তুলনায় ভারতে ওষুধের দাম তুলনামূলক কম। তবে আদালতের বক্তব্য, দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এবং রোগীদের আর্থিক ক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনা করা জরুরি। চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক স্বার্থের তুলনায় রোগীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে বলে কোর্ট। বিচারপতি মেহতা বলেন, “রোগীদের নিয়ে ব্যবসা করবেন না”
বেসরকারি হাসপাতালগুলির পক্ষে আইনজীবী মুকুল রোহতগি জানান, হাসপাতাল চালাতে বিপুল পরিকাঠামো, কর্মী এবং পরিষেবার খরচ বহন করতে হয়। পাশাপাশি বাইরে থেকে কেনা ওষুধের গুণমান নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে হাসপাতালের খরচের যুক্তিতে ওষুধের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি মেনে নেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। ওষুধের দামের এই বিপুল ব্যবধানের পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয় বেঞ্চ। বিচারপতিদের প্রশ্ন, “আপনারা একটি বাণিজ্যিক হাসপাতাল। আপনারা সবকিছুর জন্যই দাম নেন। কিন্তু ওষুধের দাম কেন ১০০, ২০০ গুণ বেশি হবে?” এই মামলায় এখনও রায় দেয়নি কোর্ট।